প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ দিয়ে হাজার হাজার মাইল বিস্তৃত উষ্ণ পানির একটি শক্তিশালী প্রবাহ, যাকে বিজ্ঞানীরা 'কেলভিন ওয়েভ' বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। এই সময়ের এক ছবির গল্পে বলা হয়েছে, সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে এটি সাধারণ ঢেউ নয়, 'প্ল্যানেটারি ওয়েভ' শ্রেণির বিশাল সামুদ্রিক প্রবাহ।
প্রশান্ত মহাসাগরে বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হলে একদিকে ঠেলে রাখা উষ্ণ পানি আবার ফিরে আসতে শুরু করে, সেভাবেই এই প্রবাহ তৈরি হয়। এল নিনোর সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক: এল নিনোয় ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গরম হয়, আর সেই বাড়তি উষ্ণ পানিই ঢেউয়ের আকারে তলদেশ দিয়ে বয়ে চলে।
সমুদ্রবিজ্ঞানী মাইক জ্যাকক্স জানান, এগুলো সৈকতের ঢেউয়ের মতো ফেনা তুলে আছড়ে পড়ে না, খালি চোখেও দেখা যায় না; কিন্তু সাগরের ওপরের স্তরের তাপমাত্রা বাড়ায় এবং কিছু সময়ের জন্য উপকূলে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সাধারণ জোয়ার বা ঝড়ের সময় পানি আরও উঁচুতে উঠে উপকূলীয় বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং সম্ভাব্য শীতকালীন ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া কোস্টাল কমিশন বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকির এলাকায় ড্রেনেজ পরীক্ষা ও ঘরবাড়ি সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের (নোয়া) বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রভাব প্রথমে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে দেখা যাবে, পরে ধীরে ধীরে উত্তরে ওরেগন ও ওয়াশিংটন উপকূল পর্যন্ত ছড়াতে পারে। লেখাটি এই সময়ের রহিত পরামানিকের।
ছবি: NOAA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); ২০১৫ সালের এল নিনোর সময় প্রশান্ত মহাসাগরের সাগরপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অসংগতি
সূত্র: এই সময়




মন্তব্য
(০)