গাভী দেখতে সুস্থ, দুধও স্বাভাবিক, অথচ ওলানে সংক্রমণ চলছে। আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লাইভস্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (International Livestock Research Institute, ILRI), সংক্ষেপে আইএলআরআই বলছে, কেনিয়ার বহু ছোট খামারে অর্ধেকের বেশি দুধের গাভী এমন লুকানো বা সাবক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিসে আক্রান্ত। কাজিয়াডো (Kajiado) কাউন্টির গবেষণা ও প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ফলাফল থেকে এ হিসাব এসেছে।
ম্যাস্টাইটিস হলো ওলানের প্রদাহ, সাধারণত বাঁটের নালি দিয়ে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে এ রোগ হয়। ক্লিনিক্যাল ধরনে ওলান ফুলে যায় বা ব্যথা হয়, দুধ অস্বাভাবিক হয়, দুধ কমে। সাবক্লিনিক্যাল ধরনে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, কিন্তু ভেতরে ক্ষতি চলতে থাকে: দুধের পরিমাণ ও মান কমে, চিকিৎসার খরচ বাড়ে, পালের অন্য গাভীতেও রোগ ছড়াতে পারে। দুই-তিনটি গাভীর দুধে যে পরিবার চলে, তার জন্য সামান্য ক্ষতিও বড়।
রোগটি সমাধানের সহজ উপায় হিসেবে আইএলআরআই দেখাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়া ম্যাস্টাইটিস টেস্ট বা সিএমটি। ওলানের চার ভাগ থেকে অল্প করে দুধ নিয়ে একটি প্যাডেলে সিএমটি রিএজেন্টের সঙ্গে মেশানো হয়। মিশ্রণ তরল থাকলে ফল নেতিবাচক; ঘন হয়ে গেলে বা জেলির মতো জমে গেলে দুধে সোমাটিক কোষ বেশি, অর্থাৎ ওই ভাগে সংক্রমণ থাকতে পারে। পরীক্ষাটি সস্তা, দ্রুত, দুধ কমার আগেই রোগ ধরিয়ে দেয়।
কাজিয়াডোর কিসেরিয়ানের (Kiserian) খামারি মার্গারেট ওয়েন্ডো (Margaret Wendo) বলেন, ম্যাস্টাইটিস বলতে তিনি শুধু লক্ষণওয়ালা রোগই চিনতেন। নিয়মিত সিএমটি করতে গিয়ে দেখেন, কোনো লক্ষণ ছাড়াই কয়েকটি গাভী আক্রান্ত। এখন তিনি আগেভাগে রোগ ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারছেন।
ক্ষতিটা শুধু খামারের নয়। দুধ কমলেও গাভীর শরীর টিকিয়ে রাখতে খাবার ও শক্তি একই লাগে, ফলে প্রতি লিটার দুধে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বেড়ে যায়। আইএলআরআই-এর মাজিঙ্গিরা সেন্টার (Mazingira Centre) তাই ম্যাস্টাইটিস প্রতিরোধ, দুধের উৎপাদন ও নির্গমনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করছে। সেন্টারের পোস্টডক্টরাল ফেলো এন্দালে গুরমু (Endale Gurmu) বলেন, উৎপাদন কমায় এমন রোগ ঠেকানো খামারির বড় বিনিয়োগ ছাড়াই নির্গমন-দক্ষতা বাড়ানোর একটি পথ।
পরামর্শ হলো, পরীক্ষায় ইতিবাচক কিন্তু দেখতে সুস্থ গাভীকে নিয়মিত পরীক্ষা করা, বারবার ইতিবাচক এলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। দুধে দলা বা ছিটে, ওলানের কোনো ভাগ ফোলা, গরম বা ব্যথাযুক্ত হলে তা ক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিস; গাভী খাওয়া ছাড়লে, জ্বর এলে বা দাঁড়াতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসক ডাকতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক দিলে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ, মাত্রা, মেয়াদ এবং দুধ ও মাংস বিক্রি বন্ধ রাখার সময় মানতে হবে।
সবচেয়ে সস্তা পথ প্রতিরোধ: দোহনের আগে ও প্রতিটি গাভীর মাঝে হাত ধোয়া, প্রতিটি গাভীর জন্য আলাদা পরিষ্কার কাপড়, দোহনের আগে-পরে বাঁট জীবাণুমুক্ত করা, আর গোয়াল, বিছানা ও দোহনের জায়গা শুকনো-পরিষ্কার রাখা। প্রতিবেদনটি লিখেছেন মাজিঙ্গিরা সেন্টারের গ্রেস ওদুওর (Grace Oduor)।
ছবি: Blonder1984 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ILRI





মন্তব্য
(০)