শূকর এক কেজি ওজন বাড়াতে কত কেজি খাবার খায়, সেই খাদ্য রূপান্তর হার (এফসিআর) বাণিজ্যিক শূকর খামারের লাভের মূল কথা। দক্ষিণ আফ্রিকার ফার্মার্স উইকলি জানাচ্ছে, সেখানে ভালোভাবে চালানো খামারে দুধ ছাড়ানো বাচ্চার জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য প্রায় ১.৩ থেকে ১.৫, আর বাড়ন্ত থেকে বাজারজাত শূকরের জন্য ২.৩ থেকে ২.৫।
ভিটাম ইন্টারন্যাশনালের মনোগ্যাস্ট্রিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ কারা নেল (Cara Nel) বলেন, সমস্যার প্রথম লক্ষণ সাধারণত শূকর বেশি খাচ্ছে কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এক খোঁয়াড়ে কিছু শূকর এগিয়ে, কিছু পিছিয়ে পড়লে বুঝতে হবে খাবারে সবার সমান নাগাল নেই, ফিডারে ঠেলাঠেলি হচ্ছে বা পেটের স্বাস্থ্য ভালো নয়। হালকা কাশি বা পাতলা পায়খানা, ফিডারের নিচে খাবার জমা, ভেজা মেঝে আর অসম মলও আগাম সংকেত।
খাদ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ঘর। ঠান্ডায় শূকর শরীর গরম রাখতে খাবারের শক্তি খরচ করে, গরমে খাওয়া কমায়, আর বায়ু চলাচল খারাপ হলে অ্যামোনিয়া বা কার্বন ডাই-অক্সাইডে রুচি কমে যায়। গাদাগাদি করে রাখলে চাপ ও রোগ বাড়ে, ফিডার বা পানির জায়গা কম হলে প্রতিযোগিতা হয়। নেলের কথায়, জাত সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ঠিক করে, কিন্তু সেটা অর্জন হবে কি না তা ঠিক করে ব্যবস্থাপনা।
খাবারের দিক থেকে কাঁচামালের মানের ওঠানামা, ঠিকমতো সমন্বয় না করা ফিডার আর ভুল দানার আকার দক্ষতা কমায়: বেশি মোটা খাবার কম হজম হয়, বেশি মিহি খাবার ফিডারে আটকে যায় বা আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়। পানির মান ও প্রবাহও জরুরি। লক্ষণহীন শ্বাসতন্ত্র ও পেটের রোগ পুষ্টিকে বৃদ্ধির বদলে রোগ প্রতিরোধে টেনে নেয়, তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই উৎপাদন কমে যায়।
এফসিআর খারাপ হলে নেলের পরামর্শ ধাপে ধাপে দেখা: আগে খাবার (কাঁচামালের মান, মাইকোটক্সিন, খাবারের সমতা, বয়স অনুযায়ী খাদ্য), তারপর ফিডার, অপচয়, পানি, ঘনত্ব, বায়ু চলাচল ও তাপমাত্রা, তারপর খামারের নথিতে ওজনের ফারাক ও মৃত্যুহার; রোগের সন্দেহ হলে পশুচিকিৎসকের পরীক্ষা। সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো খরচ বাঁচাতে খাদ্যের পুষ্টি বেশি কমানো, তাতে প্রতি কেজি ওজন বাড়ানোর খরচ উল্টো বাড়ে। টনপ্রতি দামের বদলে প্রতি কেজি বৃদ্ধির খরচ দেখে খাদ্য বিচার করতে এবং খামারে এসে দেখেন এমন পুষ্টিবিদের সঙ্গে কাজ করতে বলেছেন তিনি। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিন্ডি বোথা।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)