ব্রাজিলে নিউক্যাসল ডিজিজ, বাংলাদেশে যা রানীক্ষেত রোগ নামে পরিচিত, ধরা পড়ার পরও দেশটি থেকে মুরগির মাংস আমদানি চালু রাখার পক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকান পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (স্যাপা)। ফার্মার্স উইকলি জানিয়েছে, ব্রাজিল নির্ধারিত পশুস্বাস্থ্য সনদের শর্ত মানলে আমদানির পরিমাণ বা দামে প্রভাব পড়বে বলে সংগঠনটি মনে করছে না।
দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি বিভাগের ২৮ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, ব্রাজিল ২০ অক্টোবর প্রাদুর্ভাবের খবর জানায়। বিভাগ বলেছে, বিদ্যমান স্বাস্থ্য সনদে শর্তসাপেক্ষে তাজা মুরগির মাংস, ফোটানোর ডিম ও এক দিনের বাচ্চার বাণিজ্য চলতে পারে। তাজা মাংস আসতে হবে এমন খামার থেকে, যেখানে আগের ছয় মাসে এবং ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো রোগ হয়নি; কসাইখানা ও কাটিং প্ল্যান্ট আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরে থাকতে হবে। ডিম ও বাচ্চা আসতে হবে আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের, ১২ মাস রোগমুক্ত খামার থেকে।
স্যাপার ব্রয়লার অর্গানাইজেশনের প্রধান নির্বাহী ইজাক ব্রাইটেনবাখ (Izaak Breitenbach) বলেন, আক্রান্ত রাজ্য সান্তা কাতারিনা থেকে রপ্তানি বন্ধ থাকলে ঝুঁকি কম। তাঁর ভাষায়, শুধু সান্তা কাতারিনার রপ্তানি নিষিদ্ধ, এতে আমদানির পরিমাণ বা দামে প্রভাব পড়বে না। তবে কৃষি বিভাগের বিবৃতিতে পুরো রাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা স্পষ্ট বলা হয়নি; সেখানে সরবরাহকারী খামার ও কারখানার যোগ্যতার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
ব্রাইটেনবাখের হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকা মাসে প্রায় ১৮,০০০ টন মুরগির মাংস ব্রাজিল থেকে আমদানি করে, তবে এর কতটা সান্তা কাতারিনার তা তিনি বলতে পারেননি। দেশটির উৎপাদকেরা ব্রাজিল থেকে ফোটানোর ডিম বা এক দিনের বাচ্চা আনেন না, আর স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখার মতো প্যারেন্ট মুরগি দেশেই আছে। স্যাপা বাড়তি সুরক্ষা চায়নি।
শিল্পের প্রধান সুরক্ষা টিকা। ব্রাইটেনবাখ জানান, সব ব্রয়লার ও দীর্ঘজীবী মুরগিকে রানীক্ষেতের টিকা দেওয়া হয়। সংগঠনটির বড় দুশ্চিন্তা বরং বার্ড ফ্লু, যার জন্য আমদানির বিধিনিষেধ আরও কঠোর। প্রতিবেদনটি লিখেছেন হানলি দু প্লেসি।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)