খামারের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগুলো প্রায়ই চোখে পড়ে না, বলছেন দক্ষিণ আফ্রিকার রুমিন্যান্ট ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী ড. ডেভ মিজলি (Dave Midgley)। কম খাওয়া একটি ভেড়ি, পিছিয়ে পড়া একটি বাছুর বা ঠিকমতো কাজ না করা একটি পাঁঠা আসল খরচের শুরু। ফার্মার্স উইকলির গ্লেনিস ক্রিলকে তিনি বলেন, সুস্থ প্রাণীর সুস্থ থাকার কথা; অসুস্থ হলে বুঝতে হবে ব্যবস্থাটাই আগে ভেঙে পড়েছে।
হালকা অসুস্থ বা পুরোপুরি সেরে না ওঠা প্রাণী ধীরে ধীরে লাভ খেয়ে ফেলে। পশমের ভেড়ায় পশম কমে ও দুর্বল হয়; মাংসের প্রাণীর বৃদ্ধি ধীর হয়, বাজারজাতের সময় লাগে বেশি, ওজন ও মান কমে; গাভি ও প্রজননক্ষম স্ত্রী প্রাণী কম ও নিম্নমানের দুধ দেয়। প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ সেরে ওঠা গাভি দেখতে সুস্থ হলেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হতে পারে, আর শ্বাসতন্ত্রের রোগের জ্বরে প্রজনন ক্ষমতা হারানো ষাঁড় বা পাঁঠার ক্ষতি ধরা পড়ে পরের মৌসুমে, কম বাচ্চায়।
রোগ খামারের সময়সূচিও এলোমেলো করে দেয়। বাচ্চা প্রসবের মৌসুম ঠিক করা হয় বৃষ্টি, চারণভূমি আর ইস্টার ও বড়দিনের মতো বাজার ধরে। এ বছরের ভারী বৃষ্টি পরজীবী ও পরজীবীবাহিত রোগের অনুকূল ছিল, তাতে কিছু খামারে প্রজনন পিছিয়ে গেছে। দেরিতে জন্মানো বাচ্চা ভালো চারণ পায় না, কেনা খাবার বেশি লাগে, ধীরে বাড়ে আর সেরা বাজার হারায়।
মজা করে মিজলি সবচেয়ে বড় ঝুঁকির নাম দিয়েছেন গাতসাকিলাইটিস, প্রতিরোধে টাকা খরচে অনীহা বোঝাতে তাঁর বানানো শব্দ। টিকা, পরজীবী দমন, পুষ্টি আর জৈব নিরাপত্তাকে খরচ মনে হলেও এগুলো বাদ দিলে প্রাদুর্ভাব আর প্রজনন ক্ষতি সঞ্চয়ের চেয়ে অনেক বেশি হয়। দ্বিতীয় ঝুঁকি প্রাণীর জাত আর পরিবেশের অমিল; তাঁর মতে সেরা জাত সবসময় সবচেয়ে দামি জাত নয়, বরং যে জাত নিজের পরিবেশ ও উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খায়।
অসুখের লক্ষণ দেখলে সামাজিক মাধ্যম, ইন্টারনেট, এআই বা স্থানীয় সমবায়ে দাওয়াই না খুঁজে শুরুতেই পশুচিকিৎসক ডাকার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর কথায়, চিকিৎসকের খরচ মোট চিকিৎসা খরচের সামান্য অংশ, আসল খরচ ভুল রোগনির্ণয় আর দেরিতে। ভালো খামারে প্রাণিস্বাস্থ্য বোঝা যায় ধারাবাহিকতায়: নিয়মিত বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য প্রজনন আর স্থির উৎপাদন।
ছবি: Teddy Llovet / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)