ফসলের যখন দরকার, তার কাছাকাছি সময়ে অল্প অল্প করে নাইট্রোজেন দেওয়া পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত কৃষিবিজ্ঞান, কিন্তু পুরো মৌসুম তা ঠিকঠাক চালানোই কঠিন, লিখেছেন ডিয়ারপয়েন্ট গ্রুপের জ্যেষ্ঠ কৃষিবিদ ক্রিস মালেক (Chris Malek), ক্রপলাইফে প্রকাশিত এক কলামে। ডিয়ারপয়েন্ট ফসলের পুষ্টি, সেচ ও পুষ্টি সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কাজ করে।
তিনি গম, ভুট্টা ও আলুর ১,৮৮৩টি জোড়া পর্যবেক্ষণের একটি বৈশ্বিক মেটা-বিশ্লেষণের কথা বলেন, যাতে দেখা গেছে ড্রিপ ফার্টিগেশন (সেচের পানির সঙ্গে সার) নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা ১৮ থেকে ২৩ শতাংশ বাড়িয়েছে এবং প্রচলিত সেচের তুলনায় নাইট্রেট চুইয়ে যাওয়া ৩৩ শতাংশ কমিয়েছে। তবে মাঠের অবস্থা বদলালে এমন কর্মসূচি কীভাবে নিয়মিত চালানো যায়, তা গবেষণাটি বলেনি।
গাছ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বদলায়, তাই সারের সূচি শুরু মাত্র, একবার ঠিক করে ভুলে যাওয়ার পরিকল্পনা নয়। পাশে প্রয়োগ, উপরি প্রয়োগ বা ফার্টিগেশনের মাধ্যমে ভাগে ভাগে সার দিলে সরবরাহ শোষণের সঙ্গে বেশি মেলে, পুষ্টি ব্যবস্থাপনার 'চার আর' নীতি মেনে: সঠিক উৎস, সঠিক মাত্রা, সঠিক সময়, সঠিক স্থান। ফার্টিগেশন এ জন্য বিশেষ উপযোগী, কারণ সেচব্যবস্থা দিয়েই অল্প অল্প করে পুষ্টি যায়; উন্নত ব্যবস্থায় প্রতিটি পুষ্টি আলাদা করে সমন্বয়ও করা যায়।
ঝুঁকি হলো পরিকল্পনা থেকে সরে যাওয়া। বৃষ্টিতে প্রয়োগের সুযোগ বন্ধ হয়, তাপপ্রবাহে ফসল সূচির আগে এগিয়ে যায়, পাম্পের মাপ বিগড়ায়, শ্রমিকেরা কয়েকটি মাঠে ব্যস্ত থাকেন। মালেক লিখেছেন, মৌসুমজুড়ে এই ছোট সমস্যাগুলো ফসল আসলে কী পাচ্ছে তা বদলে দেয়; বাড়তি নাইট্রোজেন দানা বা ফলের বদলে পাতার বৃদ্ধি বাড়াতে, পাকা দেরি করাতে ও মান কমাতে পারে, আর চাহিদা কমে যাওয়ার পর দেওয়া নাইট্রোজেন গাছের প্রায় কাজে লাগে না।
তাঁর যুক্তি, স্বয়ংক্রিয় ফার্টিগেশন ফসলের বৃদ্ধির ধাপের তথ্য দিয়ে প্রতিদিন পুষ্টির মাত্রা ঠিক করতে পারে, প্রতিবার কাউকে হাতে কর্মসূচি বদলাতে হয় না, ফলে বারবারের কাজ ও শ্রম খরচ কমে। ঘন ঘন সার দেওয়ার পরিকল্পনা সুপারিশের আগে বিক্রেতা ও পরামর্শকদের তিনি কৃষকের সঙ্গে প্রথম থেকে শেষ প্রয়োগ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ধরে আলোচনা করতে বলেছেন, যাতে যন্ত্র ও শ্রমের সীমাবদ্ধতা মৌসুমের আগেই ধরা পড়ে।
ছবি: Jeff Vanuga, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: CropLife





মন্তব্য
(০)