দক্ষিণ আফ্রিকার দুধের খামারিরা এতটাই দক্ষ হয়ে উঠেছেন যে খরচ কমানোর জায়গা প্রায় নেই, তবু বেশির ভাগই ভালো মুনাফা পাচ্ছেন না। ৯ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটালের রয়্যাল শোতে ফার্মার্স উইকলির আয়োজিত দুগ্ধ খাত নিয়ে আলোচনায় খামারিরা এ চিত্র তুলে ধরেন।
দুগ্ধ খামারি টম টার্নার বলেন, তাঁর খামারজীবনে দেশে দুধের খামারির সংখ্যা প্রায় ৭,৫০০ থেকে কমে ৮৩০-এ নেমেছে, কারণ টিকে থাকতে খামারিদের বড় ও আরও দক্ষ হতে হয়েছে। ৬৫ জন খামারির একটি গবেষণা দলে কেবল শীর্ষ ২০ শতাংশ নিয়মিতভাবে ব্যাংকে টাকা রাখার চেয়ে বেশি মুনাফা পেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, 'বেশির ভাগ খামারি খামার বিক্রি করে টাকা ব্যাংকে রাখলেই আর্থিকভাবে ভালো থাকতেন', আর এই হিসাব একটি ভালো বছরের।
দুগ্ধ খামারি ও এফএমডি রেসপন্স এসএ-র মুখপাত্র অ্যান্ড্রু মরফিউ ডিজেলের হিসাবে চাপটা বোঝান: ২০১৬ সালে এক লিটার ডিজেল কিনতে ১.৪৯ লিটার দুধ বেচতে হতো, ২০২৬ সালে লাগে ৩.৬ লিটার। তিনি বলেন, 'আমরা এমন বাজারে বেশি দুধ ঢালছি, যার দাম দেওয়ার টাকা নেই', কারণ জনসংখ্যা বাড়ছে অর্থনীতির চেয়ে দ্রুত।
টার্নারের হিসাবে টিকে থাকতে তাঁকে প্রতিবছর উৎপাদন ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়াতে হয়, কিন্তু বাজার না বাড়ায় 'আমি কার্যত আরেকজন খামারিকে ব্যবসা থেকে বের করে দিচ্ছি'। তাঁর খামারে প্রতি সপ্তাহে খাদ্য গ্রহণ, দুধ উৎপাদন ও খাদ্যখরচ বাদে লাভ মাপা হয়; দানাদার খাদ্য ২ কেজি কমিয়ে ৪ লিটার দুধ কমলে খামারির লোকসানই হয়।
প্রক্রিয়াকারী ও খুচরা বিক্রেতারাও একই মানদণ্ডে চলেন কি না, সে প্রশ্ন তোলেন টার্নার। 'সবাই নিজের ভাগ নেওয়ার পর যা থাকে, খামারি তা-ই পায়,' বলেন তিনি। তাঁর হিসাবে দুগ্ধ খাতে বিপণনে ব্যয় ১ শতাংশেরও কম, অথচ বড় ভোগ্যপণ্য কোম্পানির মতো প্রায় ১০ শতাংশ হওয়া উচিত; তিনি বিপণন, নতুন পণ্য ও রপ্তানিতে বিনিয়োগের তাগিদ দেন।
টার্নার জানান, তাঁর খামার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩,০০০ মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত, আর মাসের দুধের টাকার ৯০ শতাংশ দুই দিনের মধ্যে খামারের ১০০ কিলোমিটারের ভেতরেই খরচ হয়ে যায়।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফার্মার্স উইকলির লিন্ডি বোথা।
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা



মন্তব্য
(০)