দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের গেকেবেরহার কাছে আডো এলিফ্যান্ট ন্যাশনাল পার্কে কুডু হরিণের শরীরে ক্ষুরারোগ (ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ) শনাক্ত হয়েছে। রোগ আরও ছড়ানোর ঝুঁকি যাচাইয়ের সময় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টরের পুরো উদ্যান কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ সানপার্কসের পশুচিকিৎসক ড. ডেভিড জিমারম্যান ফার্মার্স উইকলিকে জানান, উদ্যানের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কুডু খোঁড়াচ্ছে। রেড হার্টবিস্ট ও ইল্যান্ড হরিণেও উপসর্গ দেখা গেছে, তবে সেগুলোতে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি। ১ সেপ্টেম্বর নমুনা নেওয়া একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী কুডুর ফল পজিটিভ আসে, একই দিন একটি ওয়ার্টহগের নমুনা নেগেটিভ; প্রথম পরীক্ষা নেগেটিভ হলেও পরের পরীক্ষার পর ১৩ অক্টোবর প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত করে সানপার্কস।
প্রদেশের উত্তর সীমান্ত থেকে রোগটি দক্ষিণে ছড়াচ্ছে; জুলাইয়ে উদ্যানের উত্তর-পূর্ব সীমানার কাছে প্যাটারসন এলাকার এক খামারে এটি ধরা পড়ে। জিমারম্যানের ভাষায়, আগে রোগমুক্ত এলাকার বন্যপ্রাণী আক্রান্ত গবাদিপশুর সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হয়েছে। তবে আডোতে সংক্রমণের উৎস জানা যায়নি।
বন্যপ্রাণীর মৃত্যু এ রোগে কম হয়, তবে খোঁড়া প্রাণী সহজে শিকারির কবলে পড়ে। বড় উদ্বেগ আফ্রিকান মহিষ নিয়ে, যা দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে উপসর্গ ছাড়াই বছরের পর বছর ভাইরাস বহন করতে পারে। আডোর আলাদা বেড়া দেওয়া তিনটি অংশে মহিষ আছে। মূল ক্যাম্প থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের ডারলিংটন ড্যাম অংশ অন্তত তিনটি বেড়া আর জুরবার্গ পর্বতমালা দিয়ে আলাদা, যা সংক্রমণের সুযোগ কমাতে পারে, যদিও শুধু দূরত্ব সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না বলে সতর্ক করেন জিমারম্যান।
কোয়ারেন্টাইনে প্রাণীর চলাচল সীমিত, অংশগুলোর মধ্যে যানবাহন, যন্ত্র, মানুষ ও মালামাল চলাচল নিয়ন্ত্রিত, আর ঝুঁকি যাচাই ও পশুচিকিৎসা অনুমোদন ছাড়া কোনো দ্বিখণ্ডিত ক্ষুরের প্রাণী ঢুকতে বা বের হতে পারবে না। জৈব নিরাপত্তার নিয়ম মেনে পর্যটন চালু আছে। উদ্যানের আশপাশের খামারিদের জন্য ঘটনাটি দেখায়, রোগটি এখন গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে আসা-যাওয়া করছে। প্রতিবেদনটি করেছেন হানলি দু প্লেসিস।
ছবি: Dariusz Jemielniak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)