স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বের মুরসিয়ায় (Murcia) এখন সৌর প্যানেলের ছায়ায় বাড়ছে ক্যাপসিকাম, মদের আঙুর আর ড্রাগন ফল। একই জমিতে চাষ আর সৌরবিদ্যুৎ একসঙ্গে চলতে পারে কি না, তা যাচাইয়ের অংশ এটি। এই পদ্ধতির নাম অ্যাগ্রিভোলটাইকস বা অ্যাগ্রি-পিভি।
ইউরাক রিসার্চের জ্যেষ্ঠ গবেষক সিলভিয়া তোমাসি (Silvia Tomasi) বলেন, অ্যাগ্রিভোলটাইকস হলো খাদ্য উৎপাদন আর নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকে এক করা; প্যানেল বসে ফসলের ওপরে, সারির ফাঁকে বা জমির কিনারে। ২০২৩ সালের এক গবেষণার হিসাবে এভাবে ইউরোপ তার বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদার ২৫ গুণ উৎপাদন করতে পারে। দক্ষিণ ইতালিতে অ্যামাজন ও অ্যাপল মোট ১৫০ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার এমন প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করেছে; ইতালি এ জন্য ১৭০ কোটি ইউরো সরকারি সহায়তা পেয়েছে।
নিয়মও চাষকে কেন্দ্রে রাখতে চাইছে। ফ্রান্সে প্রকল্পে স্থানীয় মানদণ্ডের তুলনায় অন্তত ৯০ শতাংশ ফসল উৎপাদন ধরে রাখতে হয়; ইতালিতে জমির অন্তত ৭০ শতাংশ কৃষিতে রাখতে হয়। মুরসিয়ার কৃষি ও পরিবেশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইমিদার (IMIDA) ইইউ অর্থায়িত প্রকল্পের সমন্বয়ক পিলার ফ্লোরেস (Pilar Flores) বলেন, শ্রেণিবিন্যাসের মূল কথা হতে হবে আবাদি জমির ক্ষতি যতটা সম্ভব কম রাখা।
প্যানেলের ছায়া বাষ্পীভবন কমায়, মাটি ভেজা রাখে, শিলাবৃষ্টি থেকে ফসল বাঁচায়, শ্রমিক ও চরে বেড়ানো পশুকে রোদ থেকে আড়াল দেয়। কৃষক বিদ্যুৎ নিজে ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারেন, কিংবা জমির ওপরের জায়গা ভাড়া দিতে পারেন। তবে ফ্লোরেস সতর্ক করেন, লাভ আপনা-আপনি আসে না। মুরসিয়ায় তাঁর দল দেখেছে, পানির টানে থাকা ক্যাপসিকাম প্যানেলের নিচে ভালো পানি পাওয়া গাছের চেয়েও ভালো বেড়েছে। তাঁর কথায়, প্রতিটি জায়গা আলাদা করে বিশ্লেষণ করতে হবে।
সব কৃষক অবশ্য খুশি নন। ইতালির কৃষক সংগঠন আসোসিয়াৎসিওনে রুরালে ইতালিয়ানার সভাপতি ফাব্রিৎসিও গারবারিনো (Fabrizio Garbarino) বলেন, কৃষিজমি পরিত্যক্ত হওয়ার আসল সমস্যার সমাধান না করে অ্যাগ্রিভোলটাইকস ইতালির কৃষি সংকটের সুযোগ নিচ্ছে; ডেটা সেন্টারের মতো বড় কোম্পানির পক্ষের স্টার্টআপরা কৃষকের জমির পেছনে ঘুরছে। তোমাসি যে গবেষণার সহলেখক, ২০২৫ সালের সেই গবেষণায় দেখা গেছে, লাভ বেশি যায় বড় কৃষক, জমির মালিক ও বিনিয়োগকারীর ঘরে। ইতালির পত্রিকা টুডে.ইট-এর এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ৭৭.৫ কোটি ইউরো সরকারি অর্থের প্রায় ৮৬ শতাংশ গেছে বড় প্রকল্পে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন অ্যান্সলি ইভান্স, লটি ওয়াটার্স ও স্তেফানিয়া দি'ইনিওতি।
ছবি: UC Davis College of Engineering / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)