সারের দাম বাড়তে থাকায় দানাশস্যের চাষির জন্য অপ্রয়োজনীয় সারে টাকা নষ্ট না করার সবচেয়ে সস্তা উপায় মাটি পরীক্ষা, দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি সাপ্তাহিক ফার্মার্স উইকলিকে এমনটাই বলেছেন এক ফসল-পুষ্টি বিশেষজ্ঞ।
ইন্টেলিগ্রো ক্রপ সলিউশনসের ফসল-পুষ্টি বিভাগের কারিগরি বিপণন বিশেষজ্ঞ ড. ক্যারেন ট্রুটার (Karen Truter) বলেন, "মাটি পরীক্ষার খরচ পুরোপুরি সার্থক।" তাঁর হিসাবে, একজন ভুট্টাচাষি হেক্টরপ্রতি ৬,০০০ থেকে ১১,০০০ র্যান্ড উপকরণে খরচ করেন, যার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ যায় সারে। অথচ একটি মাটি পরীক্ষার খরচ মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ র্যান্ড।
প্রত্যাশিত ফলন আর ফসলের পুষ্টি চাহিদা ধরে মোটামুটি একটি সার পরিকল্পনা করা যায়, তবে ট্রুটারের মতে সেটি কেবল সাধারণ নির্দেশনা। সাম্প্রতিক পূর্ণাঙ্গ মাটি পরীক্ষায় প্রধান ও অণুপুষ্টি, পিএইচ এবং পুষ্টি সহজলভ্যতার অন্যান্য বিষয় জানা যায়, ফলে সারের মাত্রা অনেক নিখুঁতভাবে ঠিক করা যায়।
পরীক্ষা ছাড়া সার দিলে দুই রকম ঝুঁকি থাকে: বেশি দিলে খরচ বাড়ে ও পরিবেশের ক্ষতি হয়, কম দিলে ফলন ও লাভ কমে। তাঁর মতে সবচেয়ে বড় সাশ্রয় হয় অপ্রয়োজনীয় প্রয়োগ এড়িয়ে। মাটিতে ফসফেট যথেষ্ট থাকলে চাষি ফলনের সম্ভাবনা না কমিয়েই এমএপি সার কমাতে পারেন, আর সামান্য কমালেই পরীক্ষার খরচ উঠে আসে।
উল্টো দিকটাও গুরুত্বপূর্ণ: পরীক্ষায় এমন ঘাটতিও ধরা পড়ে, যা চুপচাপ ফসলকে পিছিয়ে দেয়। ট্রুটার জোর দিয়ে বলেন, পরীক্ষার ফল নমুনার মানের ওপর নির্ভর করে, তাই জমির কোথা থেকে, কীভাবে মাটি তোলা হচ্ছে, তা পরীক্ষাগারের কাজের মতোই জরুরি।
বাড়তি দামে সার কেনা ক্ষুদ্র চাষিদের জন্যও শিক্ষাটি একই: কেনার আগে মাটি পরীক্ষা, যেখানে দরকার নেই সেখানে এক বস্তা সার ছিটানোর চেয়ে সাধারণত সস্তা।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন জিন ভ্যান ডার মারউই।
ছবি: Jeff Vanuga, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)