সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় এবার আখের ভালো ফলন হয়েছে। অনেক চাষি আখ মাড়াই করে গুড় বানিয়ে বাড়তি লাভ করছেন, আর শীতের শুরুতেই সে গুড় হাটবাজারে উঠছে।
জেলার নয়টি উপজেলায় এবার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। উঁচু দোআঁশ জমিতে তিন চোখের টুকরা রোপণ করে আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি ও বোনসহ উন্নত জাতের আখ চাষ হয়েছে। তিন-চার বছর মেয়াদি আখের মোতা থেকেও নতুন আখ তোলা হচ্ছে, তাতে খরচ কম। চরাঞ্চলসহ বেলকুচি, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সদর উপজেলায় আবাদ সবচেয়ে বেশি।
যমুনার তীরের পারপাঁচিল গ্রামের চাষি আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ার হোসেন এবার সাত বিঘায় আখ করেছেন, যার বেশির ভাগই মোতা থেকে। মাড়াই ও গুড় তৈরি শুরু করে ভালো দাম পাওয়ায় তাঁরা বড় মুনাফার আশা করছেন।
হাটে এখন প্রতি ডিমা (তিন পোয়া) গুড় গড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং প্রতি কেজি খাঁটি গুড় ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকে খেতসহ প্রতি বিঘার আখ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। শহরে ভ্যানে কাঁচা আখ ও মেশিনে মাড়াই করা রস বিকোচ্ছে, প্রতি গ্লাস ১০ থেকে ২০ টাকা।
উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রতিবছর আখের আবাদ বাড়ছে বলে চাষিরা জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেরিন আহমেদ বলেন, এবার জেলায় আখের ফলন খুব ভালো হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক মাড়াই শুরু হলেও পুরো শীত মৌসুমজুড়ে জেলায় মাড়াই পুরোদমে চলবে।
প্রতিবেদন: সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা, কৃষি সময়
ছবি: Bhaskaranaidu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)