ইলিশ, রূপচাঁদা, ছুরি, লইট্টা, কোরাল, টুনা, স্যামন কিংবা নানা প্রজাতির চিংড়ি: উপকূলের বাইরেও সামুদ্রিক মাছের কদর বাড়ছে। এসব মাছে প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, তবে উপকার ও ঝুঁকি দুটোই নির্ভর করে মাছের ধরন, রান্নার পদ্ধতি আর খাওয়া মানুষটির শারীরিক অবস্থার ওপর। বিষয়টি তুলে ধরেছে বাংলা নিউজ ২৪-এর লাইফস্টাইল ডেস্ক।
সামুদ্রিক মাছের বড় সম্পদ ওমেগা-৩, বিশেষ করে ইপিএ ও ডিএইচএ, যা শরীর নিজে যথেষ্ট তৈরি করতে পারে না। এ ছাড়া আছে প্রোটিন, চোখ ও হাড়ের জন্য ভিটামিন এ ও ডি, থাইরয়েডের জন্য আয়োডিন, আর সেলেনিয়াম, জিংক ও পটাশিয়াম। প্রজাতিভেদে ক্যালরি ও প্রোটিনের পরিমাণ আলাদা।
ওমেগা-৩ রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে মাছ খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। ডিএইচএ মস্তিষ্ক ও চোখের রেটিনার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিবেদনেই সতর্ক করা হয়েছে, সামুদ্রিক মাছ খেলেই স্মৃতিশক্তি বাড়বে বা ডিমেনশিয়া ঠেকানো যাবে, কিংবা সেলেনিয়াম ক্যানসার প্রতিরোধ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কাঁচা বা আধাসিদ্ধ মাছে জীবাণু ও পরজীবীর ঝুঁকি থাকে, তাই ভালো করে রান্না করে খাওয়াই নিরাপদ। কিছু প্রজাতিতে পারদ বেশি থাকতে পারে, যা গর্ভস্থ শিশুর বিকাশে ক্ষতি করতে পারে; অন্তঃসত্ত্বাদের সব সামুদ্রিক মাছ বাদ দিতে হবে না, তবে কম পারদের মাছ বেছে নিরাপদ পরিমাণে খেতে হবে।
কিডনি রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী প্রোটিন, পটাশিয়াম ও ফসফরাস সীমিত রাখতে হতে পারে, তাই মাছের পরিমাণ ঠিক করতে হবে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে। চিংড়ি ও কাঁকড়ায় কারও অ্যালার্জি থাকলে তা এড়িয়ে চলতে হবে। গাউট বা ইউরিক অ্যাসিডজনিত বাতে কিছু সামুদ্রিক খাবারের পিউরিন সমস্যা বাড়াতে পারে। বেশি লবণে সংরক্ষিত বা বেশি তেলে ভাজা মাছ এড়িয়ে চলাও ভালো।
সব মিলিয়ে, সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে নিরাপদভাবে রান্না করা সামুদ্রিক মাছ খাওয়া যায়; বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত পরামর্শ নিয়েই পরিমাণ ঠিক করা উচিত।
ছবি: সাদা রূপচাঁদা (Pampus argenteus), Noblevmy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)