হুইস্কি তৈরির বর্জ্য দিয়ে ওমেগা-৩ তৈরির বাণিজ্যিক কারখানা গড়তে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জন্ম নেওয়া প্রতিষ্ঠান মাইঅ্যালজি (MiAlgae)-তে ২৫ লাখ পাউন্ড (৩৩ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করেছে স্কটিশ ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এসএনআইবি), জানিয়েছে গ্রিন কুইন।
২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা মাইঅ্যালজি গাঁজন পাত্রে হুইস্কির পুষ্টিসমৃদ্ধ উপজাত খাইয়ে অণুশৈবাল (মাইক্রোঅ্যালজি) চাষ করে। এই শৈবাল প্রাকৃতিকভাবে ডিএইচএ নামের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ; প্রক্রিয়াজাত করে শুকনো, ভেজা বা সম্পূরক আকারে পোষা প্রাণীর খাদ্য প্রস্তুতকারকদের কাছে বিক্রি হয়, যা সাধারণত মাছের তেল থেকে আসা ডিএইচএ-র জায়গা নেয়। প্রক্রিয়া শেষে পরিষ্কার পানি আবার জলধারায় ফেরত যায়।
২০২৫ সালের শেষে গ্রেঞ্জমাউথে কারখানার কাজ শুরু হয়, পেট্রোইনিওসের একটি তেল শোধনাগারের জমিতে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে বন্ধ হয়ে প্রায় ৪৩০ জনের চাকরি গিয়েছিল। নতুন কারখানায় বর্তমানের দশ গুণের বেশি ওমেগা-৩ তৈরি হবে, তিন কোটি ৬০ লাখ লিটারের বেশি হুইস্কির উপজাত পুনর্ব্যবহার হবে; নকশা মডিউলভিত্তিক, তাই ডিস্টিলারির কাছে আরও কারখানা বসানো যাবে। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ ৯০টি নতুন চাকরিতে মোট কর্মী হবে ১৫৬ জন।
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ডগলাস মার্টিন বলেন, হুইস্কির উপজাতকে দামি ওমেগা-৩ উপাদানে রূপান্তর করে তাঁরা সমুদ্রের ওপর চাপ ও বর্জ্য কমাচ্ছেন। এসএনআইবির উদ্ভাবন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক জেন রিওক মাইঅ্যালজিকে স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বলেছেন।
আগ্রহের কারণ মাছের তেলের সংকট। গ্রিন কুইন এফএও-র হিসাব উদ্ধৃত করেছে, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মাছের মজুত পুরোপুরি আহরিত, অতি-আহরিত বা নিঃশেষিত; জুনের শুরুতে প্রধান উৎপাদক অঞ্চলে মাছের তেলের সরবরাহ এক বছর আগের চেয়ে প্রায় ৩১ শতাংশ কম ছিল, আর এল নিনো দাম আরও বাড়াতে পারে। প্রায় এক বছর আগে গ্রেঞ্জমাউথ প্রকল্পে যুক্তরাজ্য সরকারও ৩০ লাখ পাউন্ড দিয়েছিল।
সূত্র: Green Queen



মন্তব্য
(০)