পশ্চিমবঙ্গের জোয়ার-ভাটার নদ রূপনারায়ণে গাঙ্গেয় শুশুক (গাঙ্গেয় ডলফিন) সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয় ভোরে, সন্ধ্যায় এবং পানির স্তর কম থাকলে। 'অ্যাকোয়াটিক ম্যামালস' সাময়িকীতে প্রকাশিত এক মাসের শব্দভিত্তিক এই গবেষণার খবর দিয়েছে মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া।
ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার (ডব্লিউআইআই) গবেষকেরা ২০২৪ সালের ৪ থেকে ৩১ জানুয়ারি একটি জায়গায় পানির নিচে এফ-পড নামের শব্দ রেকর্ডার বসান, যা শুশুকের প্রতিধ্বনি-ক্লিক শোনে; এই ক্লিক দিয়েই শুশুক পথ ও খাবার খোঁজে। যন্ত্রে ৬৫১ ঘণ্টার রেকর্ড জমে। প্রতি ঘণ্টায় কত মিনিটে অন্তত একবার শুশুকের ক্লিক শোনা গেছে, তা গুনে দিনের সময়, জোয়ারের উচ্চতা ও চাঁদের দশার সঙ্গে মেলানো হয়।
শনাক্ত সবচেয়ে বেশি হয়েছে ভোর ৪টা থেকে ৬টা ও সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টায়, সবচেয়ে কম সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টায়; আগের গবেষণার সঙ্গে এ ধারা মেলেনি বলে জানান সংশ্লিষ্ট লেখক, ডব্লিউআইআই-এর বিজ্ঞানী বিষ্ণুপ্রিয়া কোলিপাকম। সবচেয়ে স্পষ্ট সম্পর্ক জোয়ারের সঙ্গে: প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার পানিতে শনাক্ত সবচেয়ে বেশি, চার মিটারের ওপরে অনেক কম। প্রধান লেখক গার্গী রায় চৌধুরীর মতে, কম পানিতে মাছ এক জায়গায় জমতে পারে, আবার পানি বাড়লে শুশুক ছড়িয়ে গিয়ে যন্ত্রের নাগালের বাইরে যেতে পারে।
অমাবস্যার দিকে শনাক্ত কমেছে এবং শুক্লপক্ষে বেড়েছে, তবে মাত্র এক চান্দ্রমাসের তথ্য বলে এই ফল প্রাথমিক; শিকারের প্রাপ্যতাও মাপা হয়নি। গবেষণায় যুক্ত নন এমন বিশেষজ্ঞ, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের ইমরান সামাদ বলেন, ক্লিক শুশুকের উপস্থিতি জানায়, কিন্তু তারা ঠিক কী করছে তা বলে না।
রূপনারায়ণ হুগলির ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ উপনদী; বঙ্গোপসাগরের জোয়ার এতে প্রভাব ফেলে, আছে যন্ত্রচালিত নৌকায় ব্যাপক মাছ ধরা, ভাটিতে কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। গবেষকদের পরামর্শ, শুশুক জরিপে জোয়ারের অবস্থা একই রাখা উচিত। গার্গী রায় চৌধুরী জানান, সবচেয়ে বড় ও শব্দময় নৌযান আর শুশুক প্রায় একই সময়ে সক্রিয় থাকে, বাণিজ্যিক নৌযান চলে মূলত ভরা জোয়ারে, তাই শুশুকের ঝুঁকি নির্দিষ্ট সময়ে কেন্দ্রীভূত।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন মোঙ্গাবে ইন্ডিয়ার প্রিয়াঙ্কা শংকর।
ছবি: Kukil Gogoi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Mongabay India




মন্তব্য
(০)