নগর সবুজায়নে ছাদবাগানের বিকল্প দেখছেন না ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী জেসমিন জেবা। সমকালের মতামত পাতায় তিনি লিখেছেন, ছাদবাগানকে সুরক্ষা দিতে, নতুন বাগানে উৎসাহ দিতে এবং পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে এখন একটি সমন্বিত সরকারি নীতিমালা দরকার। লেখার মতামত লেখকের নিজের।
কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, শুধু ঢাকাতেই আনুমানিক সাড়ে চার লাখ বহুতল ভবনের ছাদ আছে, যার আয়তন প্রায় চার হাজার ৫০০ হেক্টর। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী ঢাকার প্রায় ৫০ লাখ পরিবার মোটামুটি পাঁচ লাখ ভবনে থাকে; এর ৬০ শতাংশ ছাদে বাগান করা সম্ভব ধরলে উপযোগী ছাদ দাঁড়ায় প্রায় তিন লাখ। অথচ এখন বাগান আছে মোট ছাদের প্রায় ৫ শতাংশে।
লেখকের প্রস্তাব, প্রথমে ছাদবাগানের একটি মাপযোগ্য সরকারি সংজ্ঞা ঠিক করতে হবে: ছাদের কত শতাংশ সবুজ থাকলে তা সিটি করপোরেশনের খাতায় ছাদবাগান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। ওয়ার্ডভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে তদারকির জন্য আলাদা মনিটরিং সেল গঠনের কথাও বলেছেন তিনি।
নাগরিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দিয়েছেন জেসমিন জেবা: অল্প জায়গায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাগান, মিয়াওয়াকি বা অ্যাকুয়াপোনিক্সের মতো পদ্ধতি, আর ভবনের ক্ষতি না করে সঠিক ওয়াটারপ্রুফিং, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ছাদবাগান মানেই ডেঙ্গুর মশার কারখানা, এই ভুল ধারণা ভাঙাও প্রশিক্ষণের অংশ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
আইনি দিক নিয়ে তাঁর প্রস্তাব: ভাড়া চুক্তিতে ‘ছাদে বাগান করা যাবে না’ বা ‘গাছ রাখা নিষিদ্ধ’ ধরনের শর্তকে আইন সংস্কারের মাধ্যমে অকার্যকর ঘোষণা করা। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩-এর অধীনে নির্দেশিকা, জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ সংশোধন করে নতুন বহুতল ভবনে ছাদবাগান বাধ্যতামূলক করা, সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এর হোল্ডিং ট্যাক্সে কর রেয়াত এবং বাড়ি ভাড়া আইন ১৯৯১-এ ভাড়াটিয়ার ছাদ ব্যবহারের অধিকার সুরক্ষার কথা বলেছেন তিনি।
ছাদকৃষি যাঁরা করেন বা করতে চান, বিশেষ করে ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য প্রস্তাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভাড়া চুক্তির শর্ত আর কর রেয়াতের প্রশ্ন সরাসরি তাঁদের ছাদ ব্যবহারের সুযোগ ঠিক করে। লেখকের ভাষায়, ছাদবাগানকে ব্যক্তিগত শখ না ভেবে নগর ব্যবস্থাপনার স্বীকৃত অংশ করা গেলে দেশ আরও বাসযোগ্য হবে।
ছবি: প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)