ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে একটি ছাদে প্রায় ১৫০টি কবুতর পালন করছেন কাজী কামাল উদ্দীন কামাল। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে বোনের স্বামীর আনা একটি কবুতরের বাচ্চা জবাই না করে বড় করার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু; পরে সেগুলো বিক্রি করে গিরিবাজ কবুতর সংগ্রহ করেন। সেই শখ এখন তাঁর জীবনের অংশ, যুক্ত আছেন কবুতরের উড়াল বা রেসিং প্রতিযোগিতার সঙ্গেও।
সরকারি চাকরিজীবী কামাল অভিজ্ঞ কবুতরপ্রেমীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও প্রতিযোগিতার কৌশল শিখেছেন। ২০০৪ সালে প্রথম ২৫ কিলোমিটার দূরত্বের একটি রেসে অংশ নেন; সেবার একটি কবুতর হারালেও বেশির ভাগ ঘরে ফিরেছিল। এ পর্যন্ত ১১টি রেসে অংশ নিয়ে সাতটিতে জিতেছেন, তিনটিতে হেরেছেন, একটি ড্র হয়েছে।
রেসের জন্য লম্বা প্রস্তুতি লাগে: নিয়মিত ওড়ানো, নির্দিষ্ট দূরত্বে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া, সঠিক খাবার আর শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। কয়েক দফা প্রশিক্ষণে ঘরে ফেরার সক্ষমতা দেখালে কবুতরকে প্রতিযোগিতার উপযুক্ত ধরা হয়। প্রতিযোগিতায় দুই পক্ষের কবুতর নির্ধারিত দূরত্ব থেকে ছাড়া হয়; কয়েক দিনের গেমে যে পক্ষের বেশি কবুতর নির্দিষ্ট সময়ে ঘরে ফেরে, সেই পক্ষ জেতে। কামাল জানান, আগে এসব প্রতিযোগিতায় টাকার বাজি থাকলেও এখন তা বন্ধ করেছেন, কারণ তা জুয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে; এখন ক্রেস্ট বা মালা বিনিময় হয়।
শখটি সস্তা নয়। খাবার, ওষুধ, পরিবহন ও প্রশিক্ষণ মিলিয়ে কামালের মাসে খরচ হয় প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, আগে অল্প আয়ের মানুষও কবুতর পালতে পারতেন, এখন খাবার, ওষুধ ও পরিবহনের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকের পক্ষে তা কঠিন। সাধারণ কবুতর ২০০ টাকায় পাওয়া গেলেও ভালো ফল করা কবুতরের দাম ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তাঁর ভাষ্যমতে, জানুয়ারি থেকে মার্চে রেস বেশি হয়, আর ঢাকায় বিভিন্ন ক্লাবের উদ্যোগে টুর্নামেন্ট হয়, কোনোটিতে শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেন। প্রশিক্ষণের পরও আবহাওয়া, শিকারি পাখির আক্রমণ, খাবারের ঘাটতি বা অসুস্থতায় অনেক কবুতর হারিয়ে যায়।
আরেক কবুতরপ্রেমী সুমন আলম প্রায় সাত-আট বছর আগে উত্তরা পিজিয়ন লাভার্স ক্লাবের ১০২ কিলোমিটারের একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, কেউ শখে, কেউ পেশা হিসেবে কবুতর পালছেন; সরকারি সহযোগিতা পেলে খাতটি আরও বিকশিত হতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের গিরিবাজ কবুতরের বিদেশে চাহিদা তৈরির সুযোগ আছে।
প্রতিবেদনটি জাগো নিউজ ২৪-এর জন্য লিখেছেন সিফাত আল ফাহিম।
ছবি: নাটোরে একটি পোষা হোমিং কবুতর, শাহাদাত সায়েম / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)