দেশের অধিকাংশ বাজারে হাঁস-মুরগি জবাইয়ের পর পালক ছাড়ানো ও পরিষ্কার সহজ করতে গরম পানিতে চুবিয়ে ড্রেসিং করা হয়। এভাবে প্রস্তুত করা গোশত খাওয়া ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে। ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত নিয়মে অল্প সময় গরম পানিতে চুবিয়ে ড্রেসিং করলে গোশত হারাম বা মাকরুহ হয় না।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-কাউসারে (সম্পাদক আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ) প্রকাশিত এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, দোকানগুলোতে সাধারণত যেভাবে মুরগি ড্রেসিং করা হয়, তাতে গোশত খাওয়া নাজায়েজ বা মাকরুহ হয় না। অল্প সময় গরম পানিতে রাখায় মূলত পালকের গোড়া নরম হয়, ফলে সহজে পালক ছাড়ানো যায়; ভেতরের নাপাকির প্রভাব সাধারণত গোশতে পৌঁছায় না।
তবে ফতোয়ায় সতর্ক করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় তপ্ত গরম পানিতে চুবিয়ে রাখার ফলে নাপাকির প্রভাব ও গন্ধ গোশতের ভেতরে ঢুকে গেলে সেই গোশত খাওয়া নাজায়েজ হবে। এ বিষয়ে ফাতহুল কাদির (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৬) ও রদ্দুল মুহতার (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৩৪) গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
বাজারে ড্রেসিংয়ের পানিতে অনেক সময় জবাইয়ের প্রবাহিত রক্ত মিশে যায়, ফলে পানি নাপাক হতে পারে। তাই বাড়িতে আনার পর হাঁস-মুরগির চামড়া ও গোশত পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত; তবে অল্প সময় ওই পানিতে চুবানোর কারণে গোশত আপনা থেকে হারাম হয়ে যায় না। ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত ড্রেসিং পদ্ধতিতে সংশোধনের সুযোগ আছে, তাই পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে হাঁস-মুরগি প্রস্তুত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, সাধারণ নিয়মে অল্প সময় গরম পানিতে ড্রেসিং করা হাঁস-মুরগি খাওয়া নাজায়েজ নয়, তবে গোশতে নাপাকির প্রভাব ঢুকলে তা খাওয়া যাবে না, আর রান্নার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
প্রতিবেদন: বাংলা নিউজ ২৪-এর ইসলাম ডেস্ক।
ছবি: পুরান ঢাকার বাজারে জীবন্ত মুরগি, David Brewer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)