ইসলামে অজু নামাজের পূর্বশর্ত, আর হাদিসে বারবার এসেছে অজু সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে করার তাগিদ। এক হাদিসে নবীজি (সা.) সাহাবিদের এমন তিনটি আমলের কথা বলেছেন, যা গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম। প্রথমটি 'ইসবাগ আলাল মাকারিহ', অর্থাৎ ঠান্ডা বা অসুস্থতার কারণে কষ্ট হলেও তা উপেক্ষা করে পরিপূর্ণভাবে অজু করা। বাকি দুটি হলো দূরের পথ পায়ে হেঁটে বেশি বেশি মসজিদে যাওয়া এবং এক নামাজের পর পরের নামাজের অপেক্ষায় থাকা।
আরেক হাদিসে নবীজি (সা.) হাউজে কাউসারের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, কেয়ামতের দিন অজুর অঙ্গগুলো উজ্জ্বল থাকবে, আর তা দেখেই তিনি তাঁর উম্মতকে চিনবেন। এ কারণেই দুনিয়াতে উত্তমরূপে অজু করার গুরুত্ব আলাদা।
উত্তম অজু বলতে কী বোঝায়, তার ব্যাখ্যায় হাদিস ব্যাখ্যাকার মোল্লা আলী কারী (রহ.) 'মিরকাতুল মাফাতিহ' গ্রন্থে বলেছেন, অজুর ফরজ, সুন্নাহ ও মুস্তাহাব সবকিছু নবীজি (সা.) যেভাবে করেছেন, ঠিক সেভাবে আদায় করা। সহিহ মুসলিমে হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তির অজুর অঙ্গে এক নখ পরিমাণ জায়গা শুকনো দেখে নবীজি (সা.) তাঁকে আবার সুন্দর করে অজু করতে বলেছিলেন। তাই পায়ের গিরা ও গোড়ালির মতো যেসব জায়গা শুকনো থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেগুলো ভালো করে ডলে ধোয়া উত্তম অজুর প্রথম দিক।
দ্বিতীয় দিক পানি অপচয় না করা। কলের নিচে অজুর সময় কল ছেড়ে রেখে ব্রাশ করা বা অযথা পানি নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, কারণ কোরআন ও হাদিসে অপচয় স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। অজুতে মেসওয়াক করাও উত্তম অজুর অংশ, কারণ নবীজি (সা.) অজুতে মেসওয়াকের নির্দেশ দিয়েছেন।
তৃতীয় দিক প্রস্রাব বা বায়ুর বেগ চেপে রেখে জোর করে অজু ধরে না রাখা। যেমন মাগরিবের অজু দিয়ে ইশার নামাজ পড়ার জন্য বেগ চেপে রাখা অনুত্তম কাজ; তা স্বাস্থ্য ও তাকওয়া কোনোটির জন্যই ভালো নয়। শীতের দিনে অনেকে কোনো রকমে পানি ছুঁইয়ে অজু সারার চেষ্টা করেন; এমনটি যেন না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন: জাগো নিউজ ২৪-এর ইসলাম ডেস্ক।
ছবি: দুবাইয়ের জুমেইরাহ মসজিদের খোলা অজুখানা, ZI Jony / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)