পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে বংশগত ঝুঁকি জানতে তিন ধরনের জিন পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের (এনসিআই) তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছে বাংলাভিশন: বিআরসিএ১ ও বিআরসিএ২ জিন পরীক্ষা, লিঞ্চ সিনড্রোমের জিন পরীক্ষা এবং মাল্টিজিন প্যানেল পরীক্ষা।
বিআরসিএ১ ও বিআরসিএ২ জিনের কিছু ক্ষতিকর পরিবর্তন স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পরিবারে অল্প বয়সে এসব ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসক এ পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। দেশের বিভিন্ন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী এর খরচ সাধারণত ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, ল্যাব ও পরীক্ষার ধরনভেদে কমবেশি হয়।
লিঞ্চ সিনড্রোম একটি বংশগত অবস্থা, যা বিশেষ করে অন্ত্র এবং জরায়ুর ভেতরের আবরণের (এন্ডোমেট্রিয়াম) ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। পরিবারে একাধিক সদস্যের এসব ক্যানসার হলে চিকিৎসক এ পরীক্ষা বিবেচনা করতে পারেন। কোন জিন আর কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা হচ্ছে, তার ওপর খরচ নির্ভর করে; সব ল্যাবে নির্দিষ্ট মূল্যতালিকা নেই, তাই আগে ল্যাবের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া দরকার।
মাল্টিজিন প্যানেলে একসঙ্গে একাধিক জিনের পরিবর্তন দেখা হয়। তবে সব প্যানেল বংশগত ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য নয়; কিছু প্যানেল ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তির টিউমারের জিনগত পরিবর্তন দেখে চিকিৎসা ঠিক করতে সাহায্য করে। যেমন আইসিডিডিআর,বির ৩২টি জিনের একটি প্যানেলের দাম ২৮ হাজার টাকা, তবে সেটি মূলত টিউমার চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয়।
অল্প বয়সে ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস, একাধিক সদস্যের একই ধরনের ক্যানসার বা একজনের একাধিক ধরনের ক্যানসার থাকলে বংশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন দরকার হতে পারে; সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা জেনেটিক কাউন্সেলরের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। সম্ভব হলে পরিবারের যিনি আগে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁর পরীক্ষা দিয়ে শুরু করলে অন্যদের মধ্যে একই পরিবর্তন আছে কি না, বোঝা সহজ হয়।
ক্ষতিকর পরিবর্তন পাওয়া গেলেই ক্যানসার নিশ্চিত নয়, আবার না পাওয়া গেলেও সব ঝুঁকি নাকচ হয় না। বংশগত ঝুঁকি শনাক্ত করা আর শরীরে এখন ক্যানসার আছে কি না নির্ণয় করা আলাদা বিষয়; তাই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে উপযুক্ত পরীক্ষা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ঝুঁকিভিত্তিক পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
ছবি: পরীক্ষাগারে জিন পরীক্ষা (প্রতীকী), Marc-Lautenbacher / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলাভিশন





মন্তব্য
(০)