এ বছরের ১ মে জীবাশ্ম জ্বালানি ও মাংসের বিলবোর্ড বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে বিশ্বের প্রথম রাজধানী শহর হয়েছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম। প্রস্তাবটি প্রথম আসে পাঁচ বছর আগে। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়া এবং একই সময়ে মাংস খাওয়া অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্যের অংশ এই নিষেধাজ্ঞা। ইউট্রেখট, দ্য হেগ, জোলে, ডেলফট ও নাইমেগেনে আগে থেকেই এমন নিয়ম আছে। হেলসিঙ্কি, স্টকহোম ও ব্রিস্টলের মতো শহরও জীবাশ্ম জ্বালানি ও অন্যান্য কার্বননির্ভর পণ্যের বিজ্ঞাপন সীমিত করেছে, তবে বেশির ভাগই মাংসকে এর বাইরে রেখেছে।
খাবারকে এর আওতায় আনার যুক্তি নিঃসরণ। বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে খাদ্য ও কৃষি থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাদ্য উৎপাদনের নিঃসরণের ৮১ থেকে ৮৬ শতাংশ প্রাণিজ খাবারের বলে ধারণা করা হয়, অথচ এগুলো দেয় মাত্র প্রায় ২১ শতাংশ ক্যালরি ও ৬৪ শতাংশ আমিষ। ৩৫টি দেশের ৭০ জন বিশেষজ্ঞের লেখা ২০২৫ সালের ইট-ল্যানসেট কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, মূলত উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যে সরে গেলে বছরে প্রায় দেড় কোটি মৃত্যু এড়ানো যেতে পারে, আর গবাদি পশুর মিথেন ও সারের নাইট্রাস অক্সাইডের মতো কৃষির কার্বন ডাই-অক্সাইড বহির্ভূত নিঃসরণ ২০৫০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ কমতে পারে।
ক্লাইমেট সাইকোলজি অ্যালায়েন্সের বোর্ড সদস্য ও জলবায়ু মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ লিন্ডা অ্যাসপে (Linda Aspey) ইউরোনিউজকে বলেন, বিজ্ঞাপনের প্রভাবের বড় অংশ আসে বারবার দেখানো আর মনে করিয়ে দেওয়া থেকে। এক গবেষণার উদাহরণ দেন তিনি, যেখানে বিগ ম্যাক বার্গারের ছবি দেখে মানুষের তা খাওয়ার ইচ্ছা বেড়েছিল। তাঁর কথায়, "প্রমাণ যা দেখায় তা হলো, বিজ্ঞাপন আমাদের বেশির ভাগের কাছে কোনটা স্বাভাবিক, তা কমবেশি ঠিক করে দেয়, আর সেটাই আচরণ বদলাতে পারে।"
নেদারল্যান্ডসে মাংস খাওয়া এমনিতেই কমছিল। ভাখেনিঙেন সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের মিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডাচরা গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম মাংস খেয়েছে। নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে আমস্টারডাম এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। লন্ডনের গণপরিবহন সংস্থা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন যখন তাদের নেটওয়ার্ক থেকে জাঙ্ক ফুডের বিজ্ঞাপন সরায়, তখন বাজারের কেনাকাটার তথ্যে দেখা যায় পরিবারপ্রতি সাপ্তাহিক এমন খাবার কেনা প্রায় ৭ শতাংশ আর মিষ্টিজাতীয় খাবার কেনা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমেছে। অ্যাসপের মতে, তামাকের মতোই এ ধরনের বিধিনিষেধ অন্য পদক্ষেপের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
ভর্তুকি অবশ্য উল্টো পথে। দাতব্য সংস্থা ফুডরাইজের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন কৃষি নীতির ভর্তুকির প্রায় ৭৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৫,১০০ কোটি ইউরোর মধ্যে ৩,৯০০ কোটি ইউরো, গেছে প্রাণিজ খাবারে। গরু ও ভেড়ার মাংস পেয়েছে মসুর ও শিমজাতীয় ডালের চেয়ে প্রায় ৫৮০ গুণ বেশি।
ইউরোনিউজের পক্ষে প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিয়াম গিলিভার।
ছবি: Infrogmation of New Orleans / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)