সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৩%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

পাহাড় কেটে পাহাড়ের সৌন্দর্য বিক্রি টেকসই নয়: উন্নয়নে প্রকৃতি ধ্বংসের দাম নিয়ে এক গবেষকের লেখা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের পিএইচডি গবেষক রাকিব হোসেন ঢাকা পোস্টে লিখেছেন, সেন্টমার্টিন থেকে সাদাপাথর ও ঢাকার জলাশয়, উন্নয়নের হিসাবে হারানো প্রকৃতির দাম ধরা হয় না; প্রকল্প অনুমোদনের আগে প্রকৃত সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যয় ধরার দাবি তাঁর।

পাহাড় কেটে পাহাড়ের সৌন্দর্য বিক্রি টেকসই নয়: উন্নয়নে প্রকৃতি ধ্বংসের দাম নিয়ে এক গবেষকের লেখা
মতামত

পাহাড় কেটে পর্যটনকেন্দ্র বানালে কত পর্যটক আসবেন আর কত আয় হবে, জলাশয় ভরাট করে ভবন তুললে জমির দাম কত বাড়বে, এসব হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু হারানো পাহাড় বা জলাশয়ের অর্থনৈতিক মূল্য কত ছিল, আর তার ক্ষতি সমাজকে কতটা বইতে হবে, সেই হিসাব খুব কমই সামনে আসে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের পিএইচডি গবেষক রাকিব হোসেন ঢাকা পোস্টে এক মতামত নিবন্ধে এই অসংগতি তুলে ধরেছেন। মতামতগুলো লেখকের নিজস্ব।

লেখক উদাহরণ টেনেছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে। ২০২৬ সালের মার্চে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকত থেকে পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে; সেন্টমার্টিনে ২০২৫ সালের এক গবেষণায় ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভূমি ব্যবহারে বড় পরিবর্তন ধরা পড়েছে; কুয়াকাটায় পাঁচ বছরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বনভূমি হারানোর তথ্য এসেছে ২০২৫ সালের সংবাদে। বান্দরবানে রিসোর্টের জন্য পাহাড় কাটা, আর সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ও জাফলংয়ে ২০২৫ সালের পাথর লুটকেও তিনি একই সমস্যার অংশ মনে করেন।

তাঁর যুক্তি, যে প্রবাল, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ওপর পর্যটন দাঁড়িয়ে, তা ধ্বংস করে পর্যটন বাড়ালে বর্তমানের মুনাফায় ভবিষ্যতের আয়ের উৎসই দুর্বল হয়। উপকূলীয় বন দুর্যোগের ক্ষতি কমায়; বন হারানোর পর কংক্রিটের প্রতিরক্ষায় যে বিপুল খরচ হয়, তা-ই প্রকৃতির হারানো সেবার দাম বোঝায়। সাদাপাথরের একটি পাথরের বাজারদর ঠিক করা সহজ, কিন্তু সেই পাথর ঘিরে নৌপরিবহন, দোকান ও পর্যটনসেবায় যে জীবিকা ছিল, তার ক্ষতিও হিসাবে আনতে হবে।

গাজীপুরের শালবনসহ নানা জায়গায় 'ইকো রিসোর্ট' বা 'ইকো পার্ক' নাম দিয়ে বন পরিষ্কার, পাহাড় কাটা বা জলধারা আটকানোকে লেখক 'গ্রিনওয়াশিং' বলেছেন; রিসোর্টের বাগান বা কৃত্রিম জলাশয় প্রাকৃতিক বনের বিকল্প নয়। সুন্দরবনের ঢাংমারী খালের পাশে রিসোর্ট আর ডলফিনের আবাসে পর্যটনের ঝুঁকির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২০২৬ সালের এক প্রাথমিক গবেষণার বরাতে লিখেছেন, ঢাকা ও আশপাশে ১৭৭৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নদী, খাল, পুকুর ও জলাশয়ের আয়তন প্রায় ৮৩.৪ শতাংশ কমেছে; জলাশয় ভরাটে জমির দাম বাড়লেও জলাবদ্ধতা ও নিষ্কাশনের খরচ চাপে পুরো শহরের ওপর, যাকে অর্থনীতিতে নেতিবাচক বহিঃপ্রভাব বলা হয়।

তাঁর প্রস্তাব, পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় প্রকল্প অনুমোদনের আগে প্রকৃত সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যয় নির্ধারণ, বন, পাহাড়, জলাশয় ও উপকূলে ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত ছাড়পত্রকে আনুষ্ঠানিকতা না রেখে বাস্তব মানদণ্ডে বাঁধা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় মানুষের মতামত ও জীবিকাকে মূল্যায়নের কেন্দ্রে রাখা। লেখকের ভাষায়, প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটনের প্রধান সম্পদ যদি প্রকৃতিই হয়, তবে সেই প্রকৃতি রক্ষাই হওয়া উচিত বিনিয়োগের প্রথম শর্ত।

লেখক: রাকিব হোসেন, পিএইচডি গবেষক, অর্থনীতি বিভাগ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। মতামত লেখকের নিজস্ব।

ছবি: চট্টগ্রামের চুনতি রেঞ্জে পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন, ২০২৫, তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ঢাকা পোস্টসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিধিমালা আছে, বাস্তবায়ন নেই: ইউরোপ-জাপানের শিক্ষা নিতে বললেন এক গবেষক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টে লিখেছেন, দেশের ৯৭ শতাংশ ই-বর্জ্য সংগ্রহ অনানুষ্ঠানিক খাতে; উৎপাদকের দায়বদ্ধতা, দোকানে পুরোনো যন্ত্র ফেরত আর জাতীয় তথ্যব্যবস্থা চান তিনি।

ঢাকা পোস্ট২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

মতামত: রপ্তানিমুখী কৃষির পথে মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য

জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত কলামে সমীরণ বিশ্বাস লিখেছেন, খাদ্যনিরাপত্তার পর বাংলাদেশের কৃষির পরের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানসম্মত, প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য, যার সুফল কৃষকের হাতে পৌঁছাবে।

জাগো নিউজ ২৪২৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

মতামত: আসাই বিশ্বজয় করলেও পিছিয়ে আমাজনের চাষিরা, জাম-আমলকীর জন্য ভারতের শিক্ষা

আমাজনের ফল আসাই কীভাবে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যপণ্যের তারকা হলো আর কেন তার সুফল চাষি সম্প্রদায় পেল না, তা দেখিয়ে জাম, আমলকী, ফলসার মতো দেশি ফল প্রক্রিয়াজাত করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বস্তি পচৌরি।

ডাউন টু আর্থ২৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)