জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত এক কলামে সমীরণ বিশ্বাস লিখেছেন, খাদ্য উৎপাদনে অগ্রগতির পর বাংলাদেশের কৃষিকে এখন রপ্তানিমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বেশি মূল্য সংযোজনকারী খাতে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, খাদ্যনিরাপত্তা ও রপ্তানি পরস্পরবিরোধী নয়: পরিকল্পিত উৎপাদন, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ফসল বাছাই করলে দেশের চাহিদা মিটিয়েও রপ্তানি সম্ভব।
লেখকের ভাষ্য, আম, কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা, লিচু, আলু, সবজি, মসলা, চা এবং পাটজাত পণ্যের বিশ্ববাজারে সম্ভাবনা আছে। তবে চাহিদা থাকলেই রপ্তানি হয় না; ক্রেতার ঠিক করা আকার, রং, স্বাদ, অবশিষ্ট বালাইনাশকের মাত্রা, প্যাকেজিং ও সরবরাহের সময় মানতে হয়, আর এক দেশের মানদণ্ড অন্য দেশে খাটে না।
তিনি কাঁচা পণ্যের চেয়ে প্রক্রিয়াজাত পণ্যে বেশি মূল্য সংযোজনের কথা বলেছেন: আম থেকে জুস, পাল্প ও শুকনো ফল, আলু থেকে চিপস, টমেটো থেকে সস ও পেস্ট, মরিচ, হলুদ ও আদা থেকে গুঁড়া। এ জন্য উৎপাদন এলাকায় প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, আধুনিক গুদাম ও হিমাগার এবং ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী সুবিধা গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মান নিয়ন্ত্রণকে তিনি রপ্তানির প্রধান শর্ত বলেছেন: উত্তম কৃষিচর্চা (জিএপি), সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, এইচএসিসিপি ও গ্লোবাল জিএপির মতো মান, পণ্যের উৎপাদনস্থল থেকে পরীক্ষার ফল পর্যন্ত ট্রেসেবিলিটি এবং আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার। সঙ্গে এআই, আইওটি, স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য, মাটির পুষ্টি বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল কৃষি পরামর্শে উপকরণের অপচয় ও খরচ কমানোর কথা লিখেছেন।
লেখকের মতে, রপ্তানির সাফল্য অর্থবহ হবে তখনই, যখন কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন। এ জন্য কৃষক সমবায়, উৎপাদক সংগঠন ও রপ্তানিকারকের মধ্যে স্বচ্ছ চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যেখানে মান, পরিমাণ, সময়, দাম ঠিক করার পদ্ধতি ও প্রত্যাখ্যাত পণ্যের দায় স্পষ্ট থাকবে, এবং মূল্যতথ্য, বীমা ও সহজ অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল জাত, পানি সাশ্রয়ী সেচ ও কম রাসায়নিকের উৎপাদনকে তিনি বাজারে প্রতিযোগিতার সুবিধা হিসেবেও দেখেছেন।
বাধা হিসেবে তিনি মানের ধারাবাহিকতা, সংরক্ষণব্যবস্থার ঘাটতি, উচ্চ পরিবহন ব্যয়, সনদ পাওয়ার জটিলতা ও বাজারতথ্যের অভাবের কথা বলেছেন, আর কৃষি, বাণিজ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, শিল্প, পরিবহন ও অর্থায়নের প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়, কোল্ড চেইন, বিমান কার্গো ও দ্রুত সনদ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: কাঁচা আম, Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)