ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের প্রতিদিনের খাবার আসাই (açaí) এখন বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের প্রিয় ফল, কিন্তু যাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই ফল আগলে রেখেছেন তাঁদের ভাগ্যে তেমন কিছু জোটেনি। ডাউন টু আর্থে এক লেখায় এ কথা তুলে ধরে ভারতের দেশি ফল নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন স্বস্তি পচৌরি (Swasti Pachauri)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
আমাজনে আসাইয়ের শাঁস বহুদিন ধরে কাসাভার পদ বা মাছের সঙ্গে খাওয়া হয়। অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থেকে আসা গাঢ় বেগুনি রঙের জোরে ফলটি জুস, বাটি, আইসক্রিম, প্রসাধনী ও সাপ্লিমেন্টে ঢুকে পড়েছে। শিল্প খাতের হিসাবে ২০২৬ সালে আসাই পণ্যের বিশ্ববাজার আরও ১৫০ কোটি ডলার বাড়বে। ভারতেও ক্যাফে আর নতুন ব্র্যান্ড তরুণ ক্রেতাদের কাছে আসাই বিক্রি করছে।
কিন্তু ফল তোলা কঠিন কাজ। লম্বা, সরু পাম গাছ যন্ত্রে কাটা যায় না, তাই চাষিরা গাছে চড়ে ফল পাড়েন; ফল দ্রুত নষ্ট হয় বলে শাঁস তাড়াতাড়ি প্রক্রিয়াজাত করে হিমাগারে পাঠাতে হয়। শিল্পটির বিরুদ্ধে শিশুশ্রম ও শোষণমূলক কাজের পরিবেশের অভিযোগও আছে। ব্রাজিলের গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিউজেউ পারায়েন্সে এমিলিও গোয়েলদির মাদসন ফ্রেইতাস (Madson Freitas) অন্য গাছপালা সরিয়ে আসাই পামের বিস্তারকে আমাজনের "আসাই-করণ" বলেছেন। অবশ্য কফির মতো ফসলের সঙ্গে কৃষি-বনায়নেও আসাই চাষ হয়, আর দুটিই খরায় ঝুঁকিতে।
ফলের ওজনের প্রায় ৮৫ শতাংশই বীজ; ফেলে দিলে তা নদী ও মাটি দূষিত করতে পারে, তবে জৈব প্রসাধনীতে এর ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে। জৈবসম্পদ পাচার ও ঐতিহ্য বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রাজিল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আসাই ও কুপুয়াসুকে জাতীয় ফলের মর্যাদা দিয়েছে।
পচৌরির মতে, ভারতের তুঁত, জাম, ফলসা, আমলকী, বরই, করমচা, হিমালয়ের রডোডেনড্রন, সি বাকথর্ন ও কাফল, এমনকি বনজ নানা পণ্যও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে পরিণত হতে পারে; আতা আর পানিফল এরই মধ্যে আইসক্রিম ও আটায় জায়গা পেয়েছে। তবে এর জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হিমাগার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ লাগবে, সঙ্গে মেধাস্বত্ব ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা আর স্থানীয় সম্প্রদায়ের ন্যায্য ভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
ছবি: Vieiraproductions / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)