ভারত মাটিতে রাসায়নিক সার ঢালতে বিপুল টাকা খরচ করে, কিন্তু যে জীবন্ত অণুজীব মাটিকে উর্বর রাখে তার কোনো হিসাব রাখে না। "মাটিই আগামীর সোনা" শিরোনামের এক লেখা ও ভিডিও উপস্থাপনায় এ কথা বলেছেন ডাউন টু আর্থের সুনীতা নারায়ণ (Sunita Narain)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
তাঁর হিসাবে, ভারতের মাটির স্বাস্থ্য কার্ড বা সয়েল হেলথ কার্ড শুধু রাসায়নিক মাপকাঠি দেখে: নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, জৈব কার্বন আর দস্তা, ম্যাগনেসিয়াম ও তামার মতো খনিজ। রাসায়নিক সারের ভর্তুকি এখন ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি রুপি, দেশের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৩ শতাংশ। ভারত এসব সারের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক, আর উপসাগরীয় যুদ্ধে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় চলতি অর্থবছরে এই ভর্তুকি দ্বিগুণ হবে বলে তাঁর ধারণা।
নারায়ণের সহকর্মীরা ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তৈরি ১ কোটি ৩০ লাখ সয়েল হেলথ কার্ড বিশ্লেষণ করে সারের ব্যবহারের সঙ্গে মাটির পুষ্টির মান মিলিয়ে দেখেছেন। রাসায়নিক সারের ব্যবহার ২০ শতাংশ বাড়লেও মাটিতে নাইট্রোজেন এবং অন্যান্য মুখ্য ও অণুপুষ্টির তীব্র ঘাটতি থেকে গেছে, আর প্রায় অর্ধেক নমুনায় জৈব কার্বন কম। তাঁর মতে, মাটির স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ায় কৃষকের উপকরণ খরচ বাড়ছে, লাভ কমছে।
তিনি মনে করেন, মাটিকে জীবন্ত ব্যবস্থা হিসেবে দেখতে হবে। ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, প্রোটোজোয়া, কেঁচো ও গুবরে পোকা মাটিকে এমনভাবে তৈরি করে যাতে গাছ পুষ্টি নিতে পারে। মানুষের অন্ত্রের জীবাণু যেমন খাবারের বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভর করে, মাটির অণুজীবের বৈচিত্র্যও নির্ভর করে কত রকম ফসল চাষ হচ্ছে তার ওপর। তাঁর কথায়, মাটির জৈব কার্বন জীবিত ও মৃত দুই ধরনের কার্বনই গোনে, তাই এটি জৈব স্বাস্থ্যের পরোক্ষ মাপ মাত্র।
মাটি পৃথিবীর বড় কার্বন ভান্ডারগুলোর একটি, আর এই অণুজীবেরাই মাটিকে আরও কার্বন ধরে রাখতে সাহায্য করে। নারায়ণের মূল দাবি, মাটির জৈব স্বাস্থ্য মাপার পদ্ধতি চাই, যাতে "পায়ের নিচের সম্পদকে আমরা অবহেলা না করি"।
ছবি: USDA NRCS South Dakota / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)