সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৮%বাতাস ৭ কিমি/ঘ

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিধিমালা আছে, বাস্তবায়ন নেই: ইউরোপ-জাপানের শিক্ষা নিতে বললেন এক গবেষক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টে লিখেছেন, দেশের ৯৭ শতাংশ ই-বর্জ্য সংগ্রহ অনানুষ্ঠানিক খাতে; উৎপাদকের দায়বদ্ধতা, দোকানে পুরোনো যন্ত্র ফেরত আর জাতীয় তথ্যব্যবস্থা চান তিনি।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিধিমালা আছে, বাস্তবায়ন নেই: ইউরোপ-জাপানের শিক্ষা নিতে বললেন এক গবেষক
মতামত

স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন বা ফ্রিজ নষ্ট হলে তা থেকে যে ই-বর্জ্য তৈরি হয়, তাতে তামা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ও সোনার মতো মূল্যবান উপাদান যেমন থাকে, তেমনি সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থও থাকতে পারে। অনিরাপদভাবে ভাঙা, পোড়ানো বা প্রক্রিয়াজাত করলে এগুলো মাটি, পানি ও বাতাসে ছড়ায় এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টে এক মতামত নিবন্ধে এ সমস্যা ও করণীয় তুলে ধরেছেন। মতামতগুলো লেখকের নিজস্ব।

লেখক উদ্ধৃত করেছেন জাতিসংঘের আইটিইউ ও ইউনিটারের 'গ্লোবাল ই-ওয়েস্ট মনিটর ২০২৪', যার হিসাবে ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরি হয়েছিল, আর এর মাত্র ২২.৩ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের নথিতে ছিল। প্রচলিত ধারা চললে ২০৩০ সালে পরিমাণটি ৮ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।

দেশে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ আছে, যাতে উৎপাদকের সম্প্রসারিত দায়বদ্ধতার ধারণাও রয়েছে; কিন্তু বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি আছে বলে মনে করেন লেখক। টিআইবির ২০২৫ সালের গবেষণার বরাতে তিনি লেখেন, দেশে ই-বর্জ্যের উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহারের নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্য নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের জন্য বুয়েটের ২০১৭ সালের এক সমীক্ষায় বছরে আনুমানিক ১ কোটি ৩৩ লাখ কেজি ই-বর্জ্যের হিসাব পাওয়া গিয়েছিল, যার প্রায় ৩ শতাংশ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত বা রপ্তানি হতো আর সংগ্রহের ৯৭ শতাংশই ছিল অনানুষ্ঠানিক খাতে; তবে এই পরিসংখ্যান জাতীয় হিসাব হিসেবে ধরার আগে এর পদ্ধতি যাচাইয়ের কথাও বলেছেন তিনি।

বিদেশের অভিজ্ঞতা থেকে লেখকের প্রস্তাব: ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো উৎপাদক ও আমদানিকারকের নির্ধারিত সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার লক্ষ্যমাত্রা এবং তার অগ্রগতি প্রকাশ; জাপানের মতো নতুন পণ্য কেনার সময় দোকান ও সার্ভিস সেন্টারে পুরোনো যন্ত্র ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা; আর দক্ষিণ কোরিয়ার মতো লক্ষ্য পূরণ না হলে পুনর্ব্যবহারের খরচের চেয়ে বেশি জরিমানা। মেরামতযোগ্য পণ্য আবার ব্যবহারের উদ্যোগ বাড়াতেও বলেছেন তিনি।

নাগরিকদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, পুরোনো মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা ব্যাটারি সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে না ফেলে অনুমোদিত সংগ্রহকেন্দ্রে জমা দেওয়া এবং সম্ভব হলে মেরামত করে আবার ব্যবহার করা। সেই সঙ্গে ই-বর্জ্যের পরিমাণ, সংগ্রহের হার ও পুনর্ব্যবহারের অগ্রগতি মাপতে একটি জাতীয় তথ্যব্যবস্থা গড়ার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে স্বল্পব্যয়ী সংগ্রহ ও নিরাপদ পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি উদ্ভাবনে যুক্ত করার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ঠিকমতো সামলাতে পারলে ই-বর্জ্য বোঝা না হয়ে সম্পদ ও কর্মসংস্থানের উৎস হতে পারে।

লেখক: ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। মতামত লেখকের নিজস্ব।

ছবি: ই-বর্জ্য সংগ্রহের একটি কক্ষ, Praveenp / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

ঢাকা পোস্টসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

পাহাড় কেটে পাহাড়ের সৌন্দর্য বিক্রি টেকসই নয়: উন্নয়নে প্রকৃতি ধ্বংসের দাম নিয়ে এক গবেষকের লেখা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের পিএইচডি গবেষক রাকিব হোসেন ঢাকা পোস্টে লিখেছেন, সেন্টমার্টিন থেকে সাদাপাথর ও ঢাকার জলাশয়, উন্নয়নের হিসাবে হারানো প্রকৃতির দাম ধরা হয় না; প্রকল্প অনুমোদনের আগে প্রকৃত সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যয় ধরার দাবি তাঁর।

ঢাকা পোস্ট২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

মতামত: রপ্তানিমুখী কৃষির পথে মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য

জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত কলামে সমীরণ বিশ্বাস লিখেছেন, খাদ্যনিরাপত্তার পর বাংলাদেশের কৃষির পরের লক্ষ্য হওয়া উচিত মানসম্মত, প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য, যার সুফল কৃষকের হাতে পৌঁছাবে।

জাগো নিউজ ২৪২৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

মতামত: আসাই বিশ্বজয় করলেও পিছিয়ে আমাজনের চাষিরা, জাম-আমলকীর জন্য ভারতের শিক্ষা

আমাজনের ফল আসাই কীভাবে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যপণ্যের তারকা হলো আর কেন তার সুফল চাষি সম্প্রদায় পেল না, তা দেখিয়ে জাম, আমলকী, ফলসার মতো দেশি ফল প্রক্রিয়াজাত করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বস্তি পচৌরি।

ডাউন টু আর্থ২৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)