স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন বা ফ্রিজ নষ্ট হলে তা থেকে যে ই-বর্জ্য তৈরি হয়, তাতে তামা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ও সোনার মতো মূল্যবান উপাদান যেমন থাকে, তেমনি সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থও থাকতে পারে। অনিরাপদভাবে ভাঙা, পোড়ানো বা প্রক্রিয়াজাত করলে এগুলো মাটি, পানি ও বাতাসে ছড়ায় এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টে এক মতামত নিবন্ধে এ সমস্যা ও করণীয় তুলে ধরেছেন। মতামতগুলো লেখকের নিজস্ব।
লেখক উদ্ধৃত করেছেন জাতিসংঘের আইটিইউ ও ইউনিটারের 'গ্লোবাল ই-ওয়েস্ট মনিটর ২০২৪', যার হিসাবে ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরি হয়েছিল, আর এর মাত্র ২২.৩ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের নথিতে ছিল। প্রচলিত ধারা চললে ২০৩০ সালে পরিমাণটি ৮ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।
দেশে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ আছে, যাতে উৎপাদকের সম্প্রসারিত দায়বদ্ধতার ধারণাও রয়েছে; কিন্তু বাস্তবায়নে বড় ঘাটতি আছে বলে মনে করেন লেখক। টিআইবির ২০২৫ সালের গবেষণার বরাতে তিনি লেখেন, দেশে ই-বর্জ্যের উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহারের নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্য নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের জন্য বুয়েটের ২০১৭ সালের এক সমীক্ষায় বছরে আনুমানিক ১ কোটি ৩৩ লাখ কেজি ই-বর্জ্যের হিসাব পাওয়া গিয়েছিল, যার প্রায় ৩ শতাংশ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত বা রপ্তানি হতো আর সংগ্রহের ৯৭ শতাংশই ছিল অনানুষ্ঠানিক খাতে; তবে এই পরিসংখ্যান জাতীয় হিসাব হিসেবে ধরার আগে এর পদ্ধতি যাচাইয়ের কথাও বলেছেন তিনি।
বিদেশের অভিজ্ঞতা থেকে লেখকের প্রস্তাব: ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো উৎপাদক ও আমদানিকারকের নির্ধারিত সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার লক্ষ্যমাত্রা এবং তার অগ্রগতি প্রকাশ; জাপানের মতো নতুন পণ্য কেনার সময় দোকান ও সার্ভিস সেন্টারে পুরোনো যন্ত্র ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা; আর দক্ষিণ কোরিয়ার মতো লক্ষ্য পূরণ না হলে পুনর্ব্যবহারের খরচের চেয়ে বেশি জরিমানা। মেরামতযোগ্য পণ্য আবার ব্যবহারের উদ্যোগ বাড়াতেও বলেছেন তিনি।
নাগরিকদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, পুরোনো মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা ব্যাটারি সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে না ফেলে অনুমোদিত সংগ্রহকেন্দ্রে জমা দেওয়া এবং সম্ভব হলে মেরামত করে আবার ব্যবহার করা। সেই সঙ্গে ই-বর্জ্যের পরিমাণ, সংগ্রহের হার ও পুনর্ব্যবহারের অগ্রগতি মাপতে একটি জাতীয় তথ্যব্যবস্থা গড়ার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে স্বল্পব্যয়ী সংগ্রহ ও নিরাপদ পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি উদ্ভাবনে যুক্ত করার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ঠিকমতো সামলাতে পারলে ই-বর্জ্য বোঝা না হয়ে সম্পদ ও কর্মসংস্থানের উৎস হতে পারে।
লেখক: ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: ই-বর্জ্য সংগ্রহের একটি কক্ষ, Praveenp / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ঢাকা পোস্ট





মন্তব্য
(০)