হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে সাধারণত রক্তচাপ, কোলেস্টেরল আর ওজনের দিকে নজর দিতে বলা হয়। আনন্দবাজার অনলাইনের এক প্রতিবেদন বলছে, এই তালিকায় আরেকটি পরিসংখ্যান প্রায়ই বাদ পড়ে: বিশ্রামের সময়ে মিনিটে হৃৎস্পন্দনের হার বা ‘রেস্টিং হার্ট রেট’।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার স্পন্দনকে স্বাভাবিক ধরা হয়, তবে অনেক সুস্থ মানুষের হার ৫৫ থেকে ৮৫-র মধ্যে থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করেন যাঁরা, তাঁদের আরও কম হতে পারে, আর প্রশিক্ষিত ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে ৪০-এর ঘরেও নামতে পারে। এক দিনের মাপ নয়, কিছু দিন টানা মেপে দেখলে তবেই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার হৃদ্রোগ চিকিৎসক জেরেমি লন্ডন সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, হৃদ্যন্ত্র কতটা দক্ষভাবে কাজ করছে, তার সহজ ইঙ্গিত দেয় এই হার। বিশ্রামে কম স্পন্দনে যে হৃদ্যন্ত্র শরীরে প্রয়োজনীয় রক্ত পৌঁছাতে পারে, সেটিকে বেশি সুস্থ ধরা হয়; নিয়মিত ব্যায়ামে হৃৎপেশি মজবুত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমস্যা তখনই, যখন বিশ্রামের হৃৎস্পন্দন দীর্ঘদিন বেশি থাকে। একাধিক গবেষণায় এর সঙ্গে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বয়স, লিঙ্গ, বাইরের তাপমাত্রা, পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও বায়ুদূষণেও এই হার ওঠানামা করে।
আবার হঠাৎ হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক কমে গেলে, বিশেষ করে সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকলে, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা দরকার; কিছু ওষুধেও হৃৎস্পন্দন কমে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও প্রাপ্তবয়স্কের স্বাভাবিক বিশ্রামকালীন হৃৎস্পন্দন মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার বলে উল্লেখ করে।
ছবি: Pascal Rehfeldt / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আনন্দবাজার




মন্তব্য
(০)