কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর ও সদরসহ বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেতে থোড় আসার আগেই ধানগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। পাতা প্রথমে বিবর্ণ হচ্ছে, পরে আগুনে পোড়ার মতো শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও জমির একাংশ, কোথাও পুরো ক্ষেত আক্রান্ত।
কৃষি বিভাগ মিলিবাগ বা ছত্রাকজাতীয় পোকার আক্রমণ, খরা ও অতিরিক্ত সার প্রয়োগকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টরে আমন হয়েছে, তবে আক্রান্ত জমির পরিমাণ এখনো নির্দিষ্ট হয়নি।
রাজারহাটের মুক্তারপাড়ার কৃষক নুর আলম বলেন, চোখের সামনে গাছ শুকিয়ে যেতে দেখে কী করবেন, বুঝতে পারছেন না। উলিপুরের পাঁচপীরের হারুনুর রশিদের জমিতে পাতায় লালচে ভাব দেখা দিয়ে কিছু গাছ শুকাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত প্রতিকার না পাওয়ায় আক্রান্ত এলাকা বাড়ছে; কৃষি বিভাগের দাবি, মাঠে তদারকি করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরিনের পরামর্শ: আক্রান্ত অংশে ধান হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই ওই অংশ কেটে ফেলে পুরো ক্ষেতে নির্ধারিত মাত্রায় অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করুন। এতে বাকি গাছ রক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত ফলনের সম্ভাবনা থাকে।
রাজারহাট বাজারের সার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, তাঁরা কৃষকদের পটাশ স্প্রে এবং জিংক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকদের শঙ্কা, দ্রুত সঠিক চিত্র নির্ণয় করে ব্যবস্থা না নিলে আমনের ফলন কমে বড় লোকসান হতে পারে।
ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)