ব্রাজিলের ফসলে ছত্রাকের ওষুধ আর আগের মতো কাজ করছে না, বারবার ছিটাতে গিয়ে খরচ বাড়ছে কৃষকের। এই সমস্যা মাথায় রেখে জার্মান কৃষি প্রতিষ্ঠান বায়ার (Bayer) ব্রাজিলের জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইডিল্যাবের (IdeeLab) সঙ্গে ১২ মাসের গবেষণা ও উন্নয়ন অংশীদারত্বে গেছে। পণ্য তৈরির পুরো ধাপে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে, লক্ষ্য একদিন বাজারে জৈব ছত্রাকনাশক আনা।
আইডিল্যাবের কাজ থেকে বায়ার নতুন সম্ভাব্য পণ্য পাবে; এর তিনটি এখনই ব্রাজিলের মাঠে পরীক্ষাধীন। একই সপ্তাহে বায়ার জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে লাতিন আমেরিকায় তারা ১৭টি নতুন জৈব পণ্য আনবে।
কোন রোগ বা কোন ফসল দিয়ে কাজ শুরু হবে, তা দুই প্রতিষ্ঠানের কেউ এখনো জানায়নি। তবে ব্রাজিলের প্রধান ফসলগুলোতে ছত্রাকের চাপ স্পষ্ট। এশীয় সয়াবিন মরিচা, হোয়াইট মোল্ড ও টার্গেট স্পট সয়াবিনের ফলন কমায়, উইচেস ব্রুম রোগ ধরে কাসাভায়, আর কফিতে দেখা দেয় পাতার মরিচা, ব্রাউন আই স্পট ও টার্গেট স্পট।
বায়ারের ক্রপ সায়েন্স বিভাগের ইনসাইটস, ইনোভেশন ও পার্টনারশিপস লিড বেনোয়া আর্টমান (Benoit Hartmann) বলেছেন, কৃষকদের আরও ভালো বিকল্প দরকার। তাঁর মতে, জৈব পণ্য পুরো খামারব্যবস্থার ভেতরে রাসায়নিক সুরক্ষার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
আইডিল্যাব নিজে একটি চুক্তিভিত্তিক উন্নয়ন ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, অন্য কোম্পানির জৈব পণ্য তৈরি, পরীক্ষা ও বাজারজাত করতে সাহায্য করে। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রোনালদো দালিও (Ronaldo Dalio) জানান, বাজারে তাদের ৩০টির বেশি পণ্য আছে এবং সিনজেনটা ও আইসিএলসহ ৬০টির বেশি অংশীদারের সঙ্গে তারা কাজ করে। তাদের বিশেষত্ব হলো নিজস্ব অণুজীব সংগ্রহ, যা বাছাই করা হয়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগবালাই মাথায় রেখে। দালিওর যুক্তি, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় কৃষিতে যে অণুজীব আগে থেকেই আছে, তা থেকে শুরু করলে গবেষণা ও ব্যবহার দুটোই সহজ হয়।
চুক্তি অনুযায়ী পণ্যের কার্যকারিতা ও সংরক্ষণকাল নির্ধারণে আইডিল্যাব দেবে বায়োপ্রসেস প্রকৌশলের দক্ষতা, সঙ্গে স্থানীয় অংশীদার ও লাতিন আমেরিকার নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার জ্ঞান। বায়ার ব্রাজিলে এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে কাজ করছে এবং ওই অঞ্চলে তাদের কয়েকটি জৈব পণ্য আগে থেকেই বাজারে আছে।
কৃষকদের গ্রহণ ও অনুকূল নিয়ন্ত্রক পরিবেশের কারণে জৈব কৃষি উপকরণে ব্রাজিল এখন সামনের সারিতে। সেখানে ভুট্টা ও সয়াবিনের মতো মাঠফসলেই এর ব্যবহার বেশি, যেখানে অন্য অঞ্চলে তা বেশি দেখা যায় বিশেষায়িত ফসলে।
১২ মাস শেষে ফলাফল দেখানো এবং সম্ভব হলে পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে দুই প্রতিষ্ঠানের। দালিও বলেন, এরপর নিবন্ধন ও আরও মাঠ পরীক্ষা হবে; ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ



মন্তব্য
(০)