রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে কলার আবাদ। সাগর, মালভোগ, চিনিচম্পা ও মেহের সাগরসহ নানা জাতের কলা চাষ হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। কম খরচে বেশি লাভের আশায় অনেক তরুণ উদ্যোক্তাও কলা চাষে নামছেন। তবে হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় এবং ফড়িয়াদের সিন্ডিকেটের কারণে চাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে কৃষি সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় ৪ হাজার ২০৮ হেক্টরে ১ লাখ ১২ হাজার ৩৫৭ টন কলা উৎপাদন হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পাঁচ জেলায় ৪ হাজার ৭৭ হেক্টরে উৎপাদন হয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৬ টন। এর মধ্যে শুধু রংপুর জেলাতেই ২ হাজার ২৬০ হেক্টরে উৎপাদন হয় ৮৮ হাজার ১৪০ টন। একই বছরে অঞ্চলের দ্বিতীয় প্রধান ফল আম উৎপাদন হয় ৫ হাজার ৮০৮ হেক্টরে ৭৫ হাজার ৫৬৪ টন।
দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়েও প্রতিবছর তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার হেক্টরে কলা চাষ হয়। দিনাজপুরের দশমাইল, মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ী, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জের ফাঁসিতলা হাটে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার কলা বেচাকেনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমস্যা শুরু হয় কাটার পর। কলা দ্রুত পচনশীল, তাই খেত থেকে তুলে দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে নষ্ট হয়। অঞ্চলে সরকারি বা বেসরকারি কোনো কলা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি, ফলে চিপস, জুস বা গুঁড়ার মতো পণ্য তৈরির উদ্যোগ নেই। উন্নত পরিবহন ও প্যাকেজিংয়ের অভাবে ঢাকাসহ বড় বাজারে পাঠানোর পথে বড় অংশ নষ্ট হয়।
মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ ইউনিয়নের তকেয়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, একসঙ্গে অনেক কলা কাটলে হিমাগার না থাকায় কম দামে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়, একটু দেরি হলেই কলা নষ্ট হতে শুরু করে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের তুষভান্ডার পাইকানটারী গ্রামের চাষি সাজু মিয়ার হিসাবে, এক বিঘায় (২৭ শতাংশ) ৩০০ চারা লাগাতে খরচ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা; ভালো কলার এক কাঁদি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়, বিঘায় বিক্রি দাঁড়ায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ থাকলে লাভ দ্বিগুণ বা তারও বেশি হতো বলে মনে করেন তিনি।
চাষিদের দাবি, হাট-বাজারের কাছে বিশেষায়িত কালেকশন সেন্টার গড়ে উঠলে ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমবে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় হলে রংপুর অঞ্চলের কলা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।
ছবি: The Roving Rokibul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)