পলিনেট হাউস প্রযুক্তিতে রাজশাহী অঞ্চলে আঙুর, উচ্চমূল্যের সবজি ও ফুলের চারা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। প্রথাগতভাবে দেশের জলবায়ু আঙুর চাষের উপযোগী ধরা না হলেও দুর্গাপুরের গুরখাই এলাকার কৃষক মোখলেছুর রহমানের বাগানে এখন রাশিয়ার বৈকানুর জাতের আঙুর থোকায় থোকায় ঝুলছে, ফলন দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ।
পলিনেট অনেকটা শীতপ্রধান দেশের গ্রিনহাউসের মতো। নেট, পলিথিন শিট ও স্টিল দিয়ে ছাউনির মতো কাঠামো বানানো হয়, যার ভেতরে সূর্যের আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কৃষি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পলিনেট প্রায় ৬০ শতাংশ সূর্যালোক আটকায় এবং ক্ষতিকর পোকা ঢুকতে পারে না, ফলে বালাইনাশক ছাড়াই নিরাপদ ফসল ফলানো যায়।
মোখলেছুর ২০ শতক জমিতে পলিনেটে আঙুর চাষ করে বছরে দুবার ফলন পেয়েছেন, প্রতিবার বিক্রি করেছেন প্রায় ৪ লাখ টাকার আঙুর। তাঁর কথায়, পলিনেট ছাড়া এত ভালো ফলন আসে না। চারঘাটের কৃষক মনিরুল ইসলাম পলিনেটে ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রকলি, স্কোয়াশ, স্ট্রবেরি, মেলন, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, লেটুস, চীনাশাক আর গোলাপ ও জারবেরার চারা উৎপাদন করে তিন বছরে আয় করেছেন ২৭ লাখ টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’ কৃষকদের বিনা মূল্যে আধুনিক সেচসুবিধাসহ ১০২টি পলিনেট হাউস দিয়েছে। এর ৩৭টিতে সবজি ও ফলের চারা, ২৫টিতে আঙুর, ৯টিতে জারবেরা ও চন্দ্রমল্লিকা, ৭টিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো এবং ১৫টিতে নানা সবজি হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান জানান, কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বীজ ও সার দেওয়া হয়; চলতি অর্থবছরে পলিনেট হাউসে সৌরশক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হাউস বিতরণে কৃষক বাছাইয়ে ভুল হলে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে পারে।
মালচিং পদ্ধতিতেও বদল আসছে। চারার গোড়ার চারপাশের মাটি পলিথিনে ঢেকে দিলে আর্দ্রতা থাকে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসে, আগাছাও কমে। চারঘাটের রাজশাহী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মজিবুল হাসান রকি প্রকল্পের প্রশিক্ষণ নিয়ে মালচিংয়ে অসময়ের তরমুজ চাষ করছেন; মণপ্রতি ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করে গত বছর ১৫ কাঠা থেকে ২ লাখ ৮ হাজার আর এ বছর ৮ কাঠা থেকে ৯২ হাজার টাকা পেয়েছেন। তিনি রাসায়নিকের বদলে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেন।
প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা মো. অনিক মেহফুজ জানান, মালচিংয়ের সব সরঞ্জাম বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। গত অর্থবছরে চারঘাটে মালচিংয়ে তরমুজের ছয়টি প্রদর্শনী হয়েছিল, এ বছর প্রায় তিন গুণ কৃষক নিজের টাকায় এ পদ্ধতিতে চাষ করছেন।
প্রতিবেদনটি আজকের পত্রিকার প্রতিবেদক সাইফুল মাসুমের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Bob Nichols, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)