গবাদিপশুর খামারঘর পরিষ্কারের পুরো কাজ মানুষের হাত ছাড়াই করবে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় রোবট বাজারে এনেছে নেদারল্যান্ডসের প্রতিষ্ঠান এমএস শিপারস। এমএস স্মার্ট ক্লিনিং রোবট নামের যন্ত্রটি কানাডায়ও বিক্রি হবে বলে জানিয়েছে ফার্মস ডটকম। প্রাণিসম্পদ খাতের আন্তর্জাতিক মেলা ইউরোটিয়ারে এটি রুপার উদ্ভাবন পুরস্কার পেয়েছে।
খামারঘর পরিষ্কার রাখা পশুর স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি, কিন্তু কাজটি কষ্টের ও অস্বাস্থ্যকর। সাধারণত কর্মীরা আলাদা আলাদা করে যে তিনটি ধাপ করেন, রোবটটি সেগুলো এক টানা ক্রমে সারে: প্রথমে রাসায়নিক ফোম ছিটিয়ে চর্বি ও প্রোটিনজাত ময়লা নরম করা, তারপর উচ্চচাপের পানিতে ময়লা ও গোবর ধুয়ে ফেলা, শেষে জীবাণুনাশক দেওয়া।
পথ চিনতে এতে আছে থ্রিডি লিডার সেন্সর, যা চলার পথ, খোঁয়াড় ও বাধা তাৎক্ষণিকভাবে মানচিত্রে তোলে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাই ব্যবহারের আগে কোনো প্রোগ্রামিং বা মেঝেতে চিহ্ন লাগে না, আর খামারঘরের ভিন্ন ভিন্ন নকশায় এটি নিজেই মানিয়ে নেয়। সাড়ে পাঁচ মিটারের টেলিস্কোপিক বাহু মিলিয়ে এর নাগাল ৭ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত, আর ছাদের ক্ষতি এড়াতে নজলের চাপ নিজে থেকে কমে-বাড়ে। খামারি স্মার্টফোন অ্যাপে কাজের অগ্রগতি দেখতে পারেন।
যন্ত্রটি বাণিজ্যিক শূকর খামারে তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়েছে, যেখানে ভালো পরিচ্ছন্নতা রোগের চাপ কমায়। এমএস শিপারস বলছে, উন্নত স্বাস্থ্যবিধি রোগের ঝুঁকি ও ওষুধের প্রয়োজন কমাতে পারে, আর পরিষ্কারের সময় কর্মীদের ঘরের বাইরে রাখায় তাঁরা রাসায়নিকের ধোঁয়া ও উচ্চচাপের ছিটা থেকে বাঁচেন।
প্রতিষ্ঠানটির টেকনিক্যাল লিড উইলেম পেনিংস বলেন, পুরো পরিষ্কারচক্র স্বয়ংক্রিয় হলে খামারিরা মূল্যবান সময় ফিরে পান এবং তাঁদের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকে। শ্রমিক সংকট, দক্ষতা ও জৈবনিরাপত্তা, আধুনিক খামারের এই তিন চাপ সামলানোর উপায় হিসেবেই রোবটটিকে তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি।
এমএস শিপারস ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান, সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হাপার্টে। কানাডায় এটি শিপারস কানাডা লিমিটেডের মাধ্যমে ব্যবসা করে। ফার্মস ডটকমের জন্য প্রতিবেদনটি লিখেছেন অ্যান্ড্রু জোসেফ।
ছবি: Unknown author / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)