খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে ডিজেল ইঞ্জিনের শব্দ ছাড়াই সৌরচালিত সেচ পাম্প ভূগর্ভ থেকে পানি তুলে শুষ্ক জমিতে পৌঁছে দিচ্ছে। এতে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার একসময়ের অনাবাদী জমিতে এখন ধান, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মরিচ হচ্ছে, কিছু কৃষক বছরে তিনবার ধানও পাচ্ছেন। বাসসের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই বদল।
প্রকল্প পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান জানান, ৫৫০ ওয়াটের ছয়টি সোলার প্যানেল থেকে মোট ৩ হাজার ২০০ ওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হয়। ২ অশ্বক্ষমতার পাম্পটি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমিতে পানি দিতে পারে। টেন্ডার অনুযায়ী প্রতিটি পাম্প বসাতে খরচ প্রায় ৫ লাখ টাকা।
সমস্যাটা ছিল পানির স্তর নেমে যাওয়া। হাসানুজ্জামানের উদাহরণ, যে গভীর নলকূপ আগে প্রায় ১৫০ বিঘায় সেচ দিত, তার এলাকা কমে প্রায় ৮০ বিঘায় দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষক আনারুল জানান, আগে দূরের পুকুর থেকে ডিজেল পাম্পে লম্বা পাইপ টেনে পানি আনতে হতো, খরচে লাভ থাকত না, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগও ছিল না। এখন সূর্য উঠলেই পাম্প চলে, জ্বালানি খরচ লাগে না।
আনারুলের হিসাবে একটি পাম্প এখন প্রায় ২০ জন কৃষকের ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমিতে সেচ দিচ্ছে, পাম্প চালায় কৃষকদের একটি কমিটি। কৃষক সুমন বলেন, আগে আমন আর শীতের সবজি বা ডালের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন আউশ ও বোরোর পাশাপাশি আগাম সবজিও হচ্ছে। আখতার হোসেন পলিথিন মালচিংয়ে আগাম ফুলকপির চারা তৈরি করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’ কৃষকদের বিনা মূল্যে এসব পাম্প দিচ্ছে। দুই বছরে বিভাগে ৩২টি সৌর সেচ পাম্প বসানো হয়েছে: ২ অশ্বক্ষমতার ২৪টি স্থায়ী, এক জমি থেকে অন্য জমিতে নেওয়ার মতো ৮টি বহনযোগ্য, আর বাগানে নির্দিষ্ট করে সেচ দেওয়ার জন্য ১০টি প্রিসিশন সৌর ব্যবস্থা। পরিচালকের দাবি, সেচ খরচ প্রায় শূন্যে নেমেছে, ফসলের নিবিড়তা বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ; ভবিষ্যতে বিদ্যমান ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত পাম্পেও সোলার প্যানেল যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে।
মোহনপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগহীন দুর্গম এলাকায় সৌর সেচ বিশেষ কার্যকর; সেচ মৌসুমের বাইরে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার ব্যবস্থা হলে উদ্যোগটি আরও অর্থবহ হতো। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম একে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেছেন, কারণ দেশে কৃষি উৎপাদনে জ্বালানিনির্ভর প্রধান উপাদান সেচ।
প্রতিবেদনটি বাসসের রাজশাহী থেকে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)