যুক্তরাষ্ট্রে প্রোটিনযুক্ত পানি, আইসক্রিম থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত ম্যাকারনি পর্যন্ত প্রোটিন মেশানো খাবারের চাহিদা তুঙ্গে। কিন্তু মোড়কের দাবিতে ক্রেতাদের সন্দেহও বাড়ছে। ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে রয়টার্সের সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ক্যাটল সাইট।
এই চাহিদার একটি কারণ ওজেম্পিক ও মৌনজারোর মতো জিএলপি-১ ওজন কমানোর ওষুধ, যা পেশিক্ষয় ঘটাতে পারে। বস্টন কনসালটিং গ্রুপের আগস্টের এক জরিপে এসব ওষুধ ব্যবহারকারীরা বলেছেন, ওষুধ শুরুর আগের চেয়ে তাঁরা উচ্চ প্রোটিনের খাবারে ১১ শতাংশ বেশি খরচ করবেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সারকানা আগস্টে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক খাদ্যতালিকায় প্রোটিন বাড়াতে চান, যা আগের বছরের চেয়ে ৭ পয়েন্ট বেশি।
একই সঙ্গে যাচাইও বাড়ছে। নিলসেনআইকিউয়ের এ বছরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা পুষ্টিমান দেখতে স্ক্যানিং অ্যাপ ব্যবহার করেন, গত বছর যা ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। এক হাজারের বেশি উত্তরদাতার এক-তৃতীয়াংশ মনে করেন, খাদ্যশিল্প প্রোটিন নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। প্রতিবেদনের সহলেখক, নিলসেনআইকিউয়ের বিপণন গবেষক ক্রিস কস্টাগলি বলেন, প্রোটিন এখন আর পণ্যকে আলাদা করে না।
রয়টার্স দেখেছে, কয়েকটি ব্র্যান্ড একই পণ্যের সাধারণ সংস্করণের চেয়ে বড় পরিবেশন ধরে প্রোটিনের পরিমাণ লিখছে। জেনারেল মিলসের নেচার ভ্যালি প্রোটিন গ্রানোলার মোড়কে ২/৩ কাপ (৬৫ গ্রাম) পরিবেশনে ১৩ গ্রাম প্রোটিনের কথা লেখা, অথচ সাধারণ গ্রানোলার পরিবেশন ধরা হয় ১/৪ কাপ (২৭ গ্রাম)। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা, প্রোটিন সংস্করণটি নাশতা বা পূর্ণ সিরিয়াল খাবার হিসেবে খাওয়া যায়। স্ট্যানফোর্ডের অধ্যাপক ও আর্ডমোর ইনস্টিটিউট অব হেলথের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা জোনাথন বনেট বলেন, পণ্যটির ক্যালরির তুলনায় প্রোটিনের অনুপাত খুবই কম।
প্রতিদ্বন্দ্বী চোবানির বিরুদ্ধে মোড়কে প্রোটিনের দাবি নিয়ে মামলা করা দানোন বলেছে, ক্রেতারা এখন গ্রামের হিসাবের বাইরে প্রোটিনের উৎস ও পুষ্টিঘনত্বও দেখছেন; চোবানি অবশ্য বলেছে তাদের লেবেল সঠিক। হরমেল জানিয়েছে, প্রোটিন বাড়াতে তারা হুই বা মটরের গুঁড়ার মতো উপাদান মেশায় না।
ইউসিএলএর অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ ডানা হানেস বলেন, বিপণনে যতটা বলা হয়, সাধারণ মানুষের ততটা প্রোটিন দরকার নেই, আর প্রোটিনের নামে বিক্রি হওয়া কিছু পণ্যে এত বেশি প্রক্রিয়াজাত উপাদান থাকে যে সেগুলোকে স্বাস্থ্যকর বলা যায় না। তাঁর কথায়, প্রোটিন আছে বলেই কোনো কিছু খাওয়া উচিত, এমন নয়।
পশুপালক ও দুগ্ধ খামারিদের জন্য প্রোটিনের এই ঝোঁক চাহিদার উৎস; আর লেবেল নিয়ে বিতর্ক মনে করিয়ে দেয়, ক্রেতারা ক্রমেই জানতে চাইছেন প্রোটিন কোথা থেকে আসছে এবং তার সঙ্গে আর কী আসছে।
ছবি: Sokolikmawwer0 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: The Cattle Site



মন্তব্য
(০)