যুক্তরাষ্ট্রে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারে (আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড বা ইউপিএফ) বাধ্যতামূলক কেন্দ্রীয় লেবেল চালু হলে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ প্যাকেটজাত খাবার এর আওতায় পড়তে পারে, আর খরচ হবে বছরে অন্তত ১,৪২০ কোটি ডলার। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ও এর ইনিশিয়েটিভ অন এনাবলিং চয়েস অ্যান্ড কমপিটিশন ইন হেলথ কেয়ার মার্কেটসের গবেষকদের এক বিশ্লেষণে এ কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও মানবসেবামন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এমন লেবেলের পক্ষে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ৩ আগস্ট অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের একটি প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় সংজ্ঞা পর্যালোচনার জন্য অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটে পাঠিয়েছে, আনুষ্ঠানিক বিধি হিসেবে নয়, শ্বেতপত্র হিসেবে। এতে এর আইনি জোর সীমিত, তবে পণ্যের উপাদান বদল, লেবেল ও ভবিষ্যৎ খাদ্যনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
এফডিএর সংজ্ঞা প্রকাশিত না হওয়ায় গবেষকেরা ২০২৬ সালের মে মাসে হেলদি ইটিং রিসার্চের প্রকাশিত সংজ্ঞা ব্যবহার করেছেন। তাতে কোনো পণ্যের উপাদান তালিকায় অন্তত একটি চিহ্নিত উপাদান থাকলেই তা অতিপ্রক্রিয়াজাত: স্বাদ, রং, চিনি নয় এমন মিষ্টিকারক, ইমালসিফায়ার ও ঘনকারকের মতো ১৩ শ্রেণির 'প্রসাধনী সংযোজক', কিংবা শিল্পজাত শর্করা, পরিবর্তিত চর্বি ও শিল্পজাত প্রোটিনের মতো রান্নাঘরে অব্যবহৃত উপাদান। ইউএসডিএর গ্লোবাল ব্র্যান্ডেড ফুড প্রোডাক্টস ডেটাবেসের প্রায় সাড়ে চার লাখ পণ্যে এটি প্রয়োগ করলে ৭২.৩ শতাংশ অতিপ্রক্রিয়াজাত বলে ধরা পড়ে। মিষ্টান্ন, বেকারির মিষ্টি খাবার, সোডা, পাস্তা ও হিমায়িত নাশতার প্রায় সবই এই দলে; চাল এবং হিমায়িত ও টিনজাত সবজির সম্ভাবনা সবচেয়ে কম।
গবেষকদের হিসাবে বার্ষিক খরচের মধ্যে লেবেল এড়াতে পণ্যের উপাদান বদলাতে ৯৫০ কোটি ডলার, বিকল্প উপাদানে ৪৫০ কোটি ডলার এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসন, নতুন লেবেল ও শ্রেণিবিন্যাসে ২০ কোটি ডলার। তাঁরা একে ন্যূনতম হিসাব বলছেন, কারণ সরবরাহকারীদের ওপর প্রভাব এতে ধরা হয়নি; এর মধ্যে মার্কিন কৃষিখাতে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের আয় কমা এবং খাদ্য আমদানিতে বছরে ৭৭০ থেকে ৮৭০ কোটি ডলার খরচ বাড়া থাকতে পারে। গবেষকদের ধারণা, ১,৪২০ কোটি ডলারের মধ্যে ৮১০ কোটি ডলার, অর্থাৎ পরিবারপ্রতি ৬০ ডলার, বাড়তি দামের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে পৌঁছাবে।
এফডিএ তার শ্বেতপত্রকে 'অর্থনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য' নয় বলেছে, অর্থাৎ প্রভাব ১০ কোটি ডলারের সীমার নিচে। তবে দুটি হিসাব আলাদা জিনিস মাপছে: সংস্থাটির হিসাব সংজ্ঞা নিয়ে, আর গবেষকেরা সেই সংজ্ঞার ওপর দাঁড় করানো একটি লেবেল নীতির খরচ হিসাব করেছেন।
কনজিউমার ব্র্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, বিশ্লেষণে মামলার খরচ ধরা হয়নি। সংগঠনটির মতে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ খাদ্যকে আওতায় নেওয়া একটি সংজ্ঞা মৌলিকভাবেই ত্রুটিপূর্ণ, আর এমন লেবেলে জনস্বাস্থ্যের আদৌ উন্নতি হবে কি না, সে বিষয়েও তারা সন্দিহান।
কৃষকদের জন্য গবেষণার সরবরাহকারী-সংক্রান্ত হিসাব মনে করিয়ে দেয়, প্রক্রিয়াজাত খাবারের সংজ্ঞা ও লেবেল কীভাবে ঠিক হয়, তার ওপর তাঁদের উৎপাদিত উপকরণের চাহিদাও বদলাতে পারে।
ফুডনেভিগেটরের পক্ষে বিশ্লেষণটি নিয়ে লিখেছেন এলিজাবেথ ক্রফোর্ড।
সূত্র: FoodNavigator



মন্তব্য
(০)