লেবানন প্রথমবারের মতো দেশটির সরকারি স্কুলে পুষ্টি ও খাদ্য পরিবেশ নিয়ে জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে মূল্যায়নটিতে যুক্ত ছিল ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এএফডি, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), ইউনিসেফ এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্থোডক্স ক্রিশ্চিয়ান চ্যারিটি।
সব প্রশাসনিক অঞ্চলজুড়ে চালানো জরিপে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টিজ্ঞান, কেনাকাটা ও শারীরিক কার্যকলাপের পাশাপাশি স্কুলের ভেতরে ও আশপাশে কী খাবার পাওয়া যায়, তা দেখা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা বাড়ছে, অথচ খাদ্যে বৈচিত্র্য কম: পুষ্টিকর খাবার কম খাওয়া হয়, আর মিষ্টি পানীয়, ফাস্টফুড ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি। অর্ধেকের বেশি, ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈশ্বিক খাদ্য সুপারিশ মানে না।
বিদ্যমান নির্দেশনায় অনুমোদিত নয় এমন খাবার স্কুলে সহজেই পাওয়া যায়, আর অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়ের বিজ্ঞাপন সরাসরি ও ডিজিটাল মাধ্যমে শিশুদের লক্ষ্য করে চালানো হয়। প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, স্কুলের দিনে তার কাছে কোনো নাশতা বা খাবার কেনার টাকা থাকে না; পরিবারের কম ক্রয়ক্ষমতাকেও একটি বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যেসব স্কুলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি আছে, সেখানকার শিক্ষার্থীরা খাদ্য সুপারিশ বেশি মানে, আর সেসব স্কুলের খাবারের দোকানও পুষ্টিমান বেশি মেনে চলে। অভিভাবকেরা জানিয়েছেন, স্কুলের খাবার শিশুদের পুষ্টিকর খাবার চেখে দেখতে সাহায্য করেছে, সংসারের খরচ কমিয়েছে এবং স্কুলে যাওয়া আনন্দময় করেছে।
লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মার্কো লুইজি কর্সি বলেন, শিশুরা একা একা খাবার বেছে নেয় না। তিনি শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদক্ষেপ এবং শিশুদের কাছে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিপণনে কড়া নিয়মের আহ্বান জানান। ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালিসন ওমান লাভি বলেন, পুষ্টিকর স্কুল খাবারের সঙ্গে পুষ্টিশিক্ষা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশ শিশুদের শেখা ও বেড়ে ওঠায় সহায়তা করে; স্থানীয় খাদ্য ব্যবস্থাও শক্তিশালী করে এমন টেকসই কর্মসূচি বাড়াতে সংস্থাটি কাজ করবে।
শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে বক্তব্য দেন শিক্ষা মহাপরিচালক ফাদি ইয়ারাক। তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী পর্যন্ত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাড়ানো দেখায়, সমন্বিত পদক্ষেপে আরও বেশি শিশুর কাছে পৌঁছানো সম্ভব। কর্মসূচিতে সহায়তাকারী ফ্রান্স ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতেরা বলেন, লক্ষ্য হলো লেবাননের প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বে একটি স্থায়ী জাতীয় স্কুল ফিডিং নীতি।
ছবি: Editorstandard / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডব্লিউএফপি



মন্তব্য
(০)