স্টিকটাইট পিসু (মুরগির চামড়ায় এঁটে থাকা এক ধরনের পিসু) আর পোলট্রি মাইট রক্ত চুষে মুরগিকে দুর্বল করে, ডিম কমায়, বেশি আক্রমণে মুরগি মারাও যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন খামারি ও এক প্রাণিবিজ্ঞানী ফুড ফর মজানসিকে বলেছেন, শুরুতেই লক্ষণ চেনা আর ঘর পরিষ্কার রাখাই প্রধান প্রতিরোধ।
এমপুমালাঙ্গার কোয়াগাফন্টেইনের দোবা গ্রামের ম্ফাৎসো পোলট্রির প্রতিষ্ঠাতা ম্ফাৎসো সিথোলে (Mphatso Sithole) খামারের প্রথম বছরে দেখেন, মুরগিগুলো অনবরত গা চুলকাচ্ছে, ঝিমিয়ে থাকছে, ডিম কম দিচ্ছে; খোঁয়াড়ে কয়েক মিনিট থাকলে তাঁর নিজের গাও চুলকাত। তাঁর সতর্কবার্তা, অন্য কাজের জন্য তৈরি ওষুধ ভুলভাবে দিলে মুরগির ক্ষতি হতে পারে। শুধু পোলট্রির জন্য অনুমোদিত ওষুধ, লেবেলের নির্দেশ মেনে, প্রয়োজনে পশুচিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করতে হবে।
ইস্টার্ন কেপের কফিমভাবার কোয়ান্দুঙ্গওয়ানার কোয়ান্দে পোলট্রি ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা জোলেলওয়া ম্থেথো (Xolelwa Mthetho) ২০২৪ সালে প্রশিক্ষণের সময় মাইটের ক্ষতি দেখেছেন: ভাঙা ডিম, উৎপাদন কমে যাওয়া, মৃত্যু বেড়ে যাওয়া। তিনি বলেন, মাইট রক্ত খায়; এতে মুরগি চাপে থাকে, খাওয়া কমায়, ঝুঁটি ফ্যাকাশে হয়, অস্থির থাকে; ডিমপাড়া মুরগির ডিম কমে, খোসা দুর্বল হয়, ভাঙে বেশি। তাঁর বিশেষ সতর্কতা নতুন মুরগি নিয়ে: সব টিকা ঠিকঠাক দিলেও আলাদা না রেখে নতুন দল খামারে ঢোকানোই ‘সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে’।
প্রাণিবিজ্ঞানী, খামারি ও কফিমভাবার শিৎশি এসসি ফার্মার্স স্টোরের মালিক ওলওয়েথু লাহো (Olwethu Laho) জানান, স্টিকটাইট পিসু পালকহীন জায়গায় জমে: ঝুঁটি, গলকম্বল, মুখ আর চোখের চারপাশে। তাঁর কথায়, ‘স্ত্রী পিসুর ডিম লিটার বা মাটিতে পড়ে, তাই সমস্যা কখনো শুধু মুরগির গায়ে থাকে না।’ বেশি আক্রমণে রক্তশূন্যতা, শরীর ভেঙে পড়া আর ডিম কমে যায়; বাচ্চা ও ছোট মুরগির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। উষ্ণ ও ভেজা মাসে এদের সংখ্যা বাড়ে, তবে কোথাও কোথাও সারা বছরই থাকে।
তিনজনের পরামর্শই হাতেকলমে: নিয়মিত মুরগি পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে উঠানে বা খোলা জায়গায় চরে বেড়ানো মুরগি, যেগুলো মাটির সংস্পর্শে আসে; পুরোনো লিটার ও বিছানা সরিয়ে ফেলুন; ঘর ও ডিম পাড়ার বাক্স পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন; ঘর শুকনো রাখুন, বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন; নতুন মুরগি দলে মেশানোর আগে পরজীবী আছে কি না দেখুন। মুরগির সঙ্গে ঘর ও লিটারেরও ব্যবস্থা নিলে পরজীবীর জীবনচক্র ভাঙে, আবার আক্রমণের ঝুঁকি কমে। প্রতিবেদনটি করেছেন ভাতেকা হালিলে।
ছবি: Erik Streb / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি



মন্তব্য
(০)