নদীবেষ্টিত দ্বীপ-চরের মানুষের জীবিকা ও সঞ্চয়ের বড় ভরসা পশুপালন, আর খোলা মাঠ, প্রাকৃতিক ঘাস ও কম খরচের কারণে অনেকে বেছে নিচ্ছেন ভেড়া। কিন্তু যে চর ভেড়া পালনের জন্য সম্ভাবনাময়, দুর্যোগে সেই চরই হয়ে ওঠে দুর্ভোগের কারণ; আর হাটে প্রত্যাশিত দাম না মেলায় অনেক খামারি আগ্রহ হারাচ্ছেন, জানিয়েছে জাগো নিউজ।
উপকূলের বিচ্ছিন্ন চরে খামারিরা নদীর তীর আর বিস্তীর্ণ মাঠের ঘাসে ভেড়া চরান, ফলে প্রতিদিন কেনা খাবারের দরকার কম। পারিবারিক শ্রমে চলা এই পালন দরিদ্র পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস; প্রয়োজনে ভেড়া বিক্রি করে চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা বা সংসারের জরুরি খরচ মেটানো যায়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা বা নদীভাঙনে দীর্ঘদিনের এই সঞ্চয় মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচরের খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেক চরে পর্যাপ্ত উঁচু জমি, পশুর আশ্রয়কেন্দ্র বা দ্রুত পশু সরানোর ব্যবস্থা নেই; পূর্বাভাস পেলেও সব পশু নিরাপদে নেওয়া যায় না, কারণ নৌযান, শ্রমিক ও টাকার দরকার হয়। নিচু চর ডুবলে চারণভূমি তলিয়ে যায়, ঘাস আর বিশুদ্ধ পানির সংকট হয়। একই চরের ফরিদ মিয়া জানান, দুর্যোগের পর একসঙ্গে অনেকে পশু বিক্রি করতে চাইলে বাজারে দাম পড়ে যায়।
দামের প্রশ্নও বড়। ঢালচরের আব্দুল হালিম বলেন, সারা বছর মাঠে চরিয়ে ভেড়া বড় করেন, কিন্তু হাটে অনেক ক্রেতা এত কম দাম বলেন যে মনে হয় এটা খাওয়ার যোগ্য পশুই না। খামারি হোসনে আরা বেগমের ভাষায়, বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেক সময় খরচ তোলাই কঠিন। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকার কিছু পরিবার ভেড়ার মাংসে আগ্রহী হলেও তা সীমিত; গন্ধ নিয়ে ধারণা থাকলেও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে সেটি অনেকটাই পালনপদ্ধতি ও রান্নার ওপর নির্ভর করে।
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, কম খাদ্যে টিকে থাকা আর খোলা পরিবেশে চরে বেড়ানোর সক্ষমতার কারণে চর ও উপকূলের ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ভেড়া পালন কার্যকর আয়ের উৎস হতে পারে; তবে রোগ প্রতিরোধ, পরিচর্যা আর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে খামারিদের আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ভেড়া উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, নিয়মিত টিকা, দ্রুত রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা আর স্থানীয় খাদ্যের সঙ্গে উপযুক্ত সম্পূরক খাবার পশুর সুস্থতায় সহায়ক। তাঁর পরামর্শ, স্থানীয় হাটে পশুর স্বাস্থ্য ও ওজন যাচাই, বাজারদরের নির্ভরযোগ্য তথ্য আর মধ্যস্বত্বভোগী কমানো গেলে খামারিরা ভালো দাম পাবেন। প্রতিবেদনে চরে পশুর জন্য উঁচু আশ্রয়স্থল, জরুরি পশুখাদ্যের মজুত, পূর্বাভাস ধরে পশু সরানোর পরিকল্পনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহজ ঋণ ও বিমার কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি করেছেন জাগো নিউজের খায়রুল বাশার আশিক।
ছবি: ভাসানচরে ভেড়া পালন, Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)