ওয়েলসের খামারিরা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে ওঠা আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াচ্ছেন, কিন্তু সব খামারের জন্য এক নিয়মের কৃষিনীতি তাঁদের চেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে। ওয়েলস সরকারের করানো এবং ২০ অক্টোবর প্রকাশিত ‘কৃষিতে জলবায়ু অভিযোজন’ গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি। গবেষণাটি প্রতিটি খামারের অবস্থা বিবেচনায় নেয় এমন অনুদান, নিয়ম ও পরামর্শসেবার আহ্বান জানিয়েছে।
মেন্টেরা (Mentera) পরিচালিত গবেষণায় অংশ নেন ৬৩ জন খামারি ও কৃষি খাতের আটজন প্রতিনিধি। তাঁরা জানান, অনিশ্চিত আবহাওয়া চারণ, মাঠের কাজ ও গোখাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করছে, খরচ বাড়াচ্ছে। এক খামারির কথায়, ‘গত পাঁচ বছরে এমন হয়েছে, প্রচণ্ড ভেজা অবস্থা থেকে বৃষ্টি থামতেই খরা।’
খামারিরা চারণপদ্ধতি বদলাচ্ছেন, পশুর ঘরে বিনিয়োগ করছেন, আশ্রয়ের জন্য ঝোপের বেড়া লাগাচ্ছেন, খরার জন্য বাড়তি পানি ধরে রাখার কথা ভাবছেন; লাভজনক ও উৎপাদনশীল থাকার তাগিদ যেমন আছে, জলবায়ুর চাপও আছে। তবে অভিযোজন ব্যয়বহুল: একজন অংশগ্রহণকারী ৩৬ হাজার পাউন্ড খরচ করে গোবর রাখার ঘর বানিয়েছেন, যা বছরের বেশির ভাগ সময় খালি থাকে।
টেকসই কৃষি প্রকল্প (SFS) দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা দেবে কি না এবং পরিবেশ ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য রাখবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অংশগ্রহণকারীরা। ‘গ্রোয়িং ফর দ্য এনভায়রনমেন্ট’ প্রকল্পের নির্ধারিত বীজমিশ্রণেরও সমালোচনা হয়; খামারিদের যুক্তি, কোন বহুপ্রজাতির ঘাসমিশ্রণ উপযুক্ত তা মাটি, জায়গা ও চাষপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। এক শিল্প-প্রতিনিধি বলেন, ‘স্প্রেডশিট দেখে খামার চালানো চলবে না!’ প্রতিবেদনে খামারিকে উপযুক্ত পদক্ষেপ বেছে নেওয়ার সুযোগ, সহজ অনুদান-আবেদন আর আবহাওয়ার বদলে যাওয়া সময়সূচির সঙ্গে মানানসই নিয়মের সুপারিশ করা হয়েছে।
সিএলএ সিমরুর জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা ফ্রেজার ম্যাকঅলি বলেন, ফলাফলে অনমনীয় প্রকল্প নিয়ে সদস্যদের উদ্বেগেরই প্রতিফলন; তিনি বহুবর্ষী অর্থায়ন এবং কঠোর নির্দেশনার বদলে বাস্তব ফলকে পুরস্কৃত করে এমন প্রকল্প চান। ওয়েলস সরকার জানিয়েছে, এসএফএস ও অনুদান প্রকল্প তৈরিতে, বিশেষ করে খামারভেদে নমনীয়তা আনতে, গবেষণার ফলাফল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
ছবি: Roger Kidd / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)