ভোরের আলো ফুটতেই পলো হাতে নদী আর জলাশয়ে নেমে পড়েন নানা বয়সী মানুষ; কারও পলোয় ধরা পড়ে বোয়াল, শোল বা রুই, কেউ ফেরেন খালি হাতে। শুক্রবার ভোরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তরা, মির্জাপুর ও রাথুরা চকের জলাশয়ে শতাধিক শৌখিন মৎস্যশিকারি পলো দিয়ে মাছ ধরেন, জানিয়েছে আজকের পত্রিকা।
একই দিন ইছামতীর শাখা নদীতে বসে পলোবাইচের আসর; উথুলী ইউনিয়নের বারাদিয়া থেকে করজনা সেতু পেরিয়ে ঠাকুরকান্দি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নদীপথে অংশ নেন অন্তত ৩০০ জন। আগের দিন শোলধারা ও নয়াচরের জলাশয়েও মাছ ধরা চলে। খবর ছড়াতে কোথাও হাটে ঢাকঢোল পেটানো হয়, কোথাও মাইকিং। আয়োজকদের তথ্যে, অক্টোবরজুড়ে জেলার অন্তত শতাধিক স্থানে এমন আয়োজন হওয়ার কথা।
মৎস্যশিকারি ইসলাম খান বলেন, পলোয় মাছ ধরার আনন্দই আলাদা, মাছের সঙ্গে বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গেও দেখা হয়। মাহফুজ ভূঁইয়ার ভাষায়, মাছ কম পেলেও জলাশয়ে নামার আনন্দ কমে না, কে বড় মাছ পেল তা নিয়েই চলে আলোচনা।
প্রবীণ বারেক মিয়া জানান, আগে জলাশয়ে দেশি মাছের প্রাচুর্য ছিল, পলো নিয়ে নামলে অনেকেই বড় মাছ পেতেন; এখন মাছ কমেছে, তবু মানুষ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। একসময় কার্তিক থেকে মাঘ পর্যন্ত পানি নামলে ইছামতী, ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গা, গাজীখালী ও কান্তাবতীতে পলো দিয়ে মাছ ধরার ধুম পড়ত, এখন তা অনেক কম।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বারসিকের মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, পলোবাইচ টিকিয়ে রাখতে জলাশয় আর দেশি মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা জরুরি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারেন্ট জাল, পোনা ধরা, পানি সেচে মাছ নিধন ও বিষ প্রয়োগে দেশি মাছের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য কমছে। ঘিওরের প্রাকৃতিক কৃষিকেন্দ্রের পরিচালক দেলোয়ার জাহান ও বানিয়াজুরী ইউপি চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিলটুও একই কথা বলেন: জলাশয় ও দেশি মাছ বাঁচলে ঐতিহ্যও বাঁচবে।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন আজকের পত্রিকার ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি।
ছবি: চাটমোহরের রাউল বিলে পলো উৎসব (প্রতীকী), Sultan Ahmed Niloy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা




মন্তব্য
(০)