একসময় যে খিরু নদীতে প্রচুর মাছ মিলত, যার পানিতে জমিতে সেচ হতো আর মানুষ গোসল করত, ময়মনসিংহের ভালুকায় সেই নদী এখন শিল্পবর্জ্যে বিবর্ণ। খাল-নালা হয়ে কারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নদীতে পড়ে সেটিকে দূষিত জলাধারে পরিণত করছে, জানিয়েছে সমকাল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, খিরুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। গফরগাঁও, ভালুকা ও শ্রীপুরের মিলনস্থল ত্রিমোহনীর শীতলক্ষ্যা থেকে উৎপত্তি হয়ে নদীটি ভালুকা সদর ও মল্লিকবাড়ী হয়ে ফুলবাড়িয়ায় গিয়ে ‘বানার’ নাম নেয়, পরে আবার খিরু নামে গফরগাঁওয়ের সুতিয়া নদীতে মেশে। নব্বইয়ের দশকের শেষে ভালুকায় শিল্পায়ন শুরু হয়; এখন উপজেলায় তিন শতাধিক ছোট-বড় কারখানা, যার অধিকাংশের বর্জ্য লাউতি খালসহ কয়েকটি পথে খিরুতে পৌঁছায় বলে সরকারি প্রতিবেদনেও উল্লেখ আছে।
আগে জুন থেকে সেপ্টেম্বর নদীতে ভালো প্রবাহ থাকলেও এখন জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাঝারি প্রবাহ থাকে, বছরের বাকি ৯ মাস পানি প্রায় থাকে না। পলি জমা আর দুই পাড় দখলে গভীরতা ও প্রশস্ততা কমছে। কাঁঠালি গ্রামের কৃষক হারুন ফকির, লাল মিয়া ও রফিকুল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বর্জ্যের প্রভাব আরও প্রকট হয়, পানি কখনো কালো কখনো নীল হয়, দুর্গন্ধ ছড়ায়। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, পানি কমার সময় নদীতে কোনো মাছ বাঁচে না, আর এই দূষিত পানিতে সেচ দিয়ে ফসলের ক্ষতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
১৯৮৮-৯২ সালে খিরু নদী উপপ্রকল্পে নদী-খাল পুনর্খনন ও পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো হয়েছিল। ২০২৩ সালে রাজৈ ইউনিয়নের পারুলদিয়া থেকে মল্লিকবাড়ীর পশ্চিম সীমা পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার পুনর্খনন হয়, কিন্তু খননের মাটি পাড়ে ও কোথাও নদীর ভেতরেই ফেলে রাখার অভিযোগ ওঠে; বর্ষায় সেই মাটি আবার নদীতে পড়ায় প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি।
বাপার ভালুকা আঞ্চলিক কমিটির সদস্যসচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল বলেন, প্রায় এক দশক ধরে তাঁরা উপজেলার প্রায় ৪০টি নদী-খাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছেন, আশ্বাস মিললেও কাজ হয়নি; ‘খিরু বাঁচলে বাঁচবে ভালুকা।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন জানান, নদী-খাল সংস্কার করে প্রবাহ চালু আর অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা বন্ধে কাজ চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহাম্মদ বাচ্চু বলেন, সম্প্রতি বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী এলাকা পরিদর্শন করে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, কারখানায় বাধ্যতামূলক ইটিপি চালুসহ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)