মা ইলিশ রক্ষায় ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উত্তরের বটগাছতলা ঘাট থেকে প্রতিদিন সাত-আটটি নৌকা সাগরে গিয়ে ইলিশ ধরে ফিরছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মধ্যভাগের রহমতপুর ঘাট থেকেও একই খবর এসেছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা শুরুর ১৫ দিন পরও, শুক্রবার পর্যন্ত, কোনো জেলে সরকারি খাদ্যসহায়তা পাননি, জানিয়েছে প্রথম আলো।
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ২১ অক্টোবর সন্দ্বীপের বিভিন্ন ঘাটে ২৩টি যৌথ অভিযান হয়েছে। এর ২১টিতে কাউকে আটক বা ইলিশ উদ্ধার করা যায়নি; দুটি অভিযানে ৩০৫ কেজি ইলিশ ও ৪২ হাজার মিটার জাল জব্দ হয় এবং দুই জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেন। মৎস্য অফিসের মাঠ সহকারী মাহমুদুন নবী জানান, ১৪ অক্টোবর রাতভর বটগাছতলায় অপেক্ষা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি, পরে জানা যায় মাছ বিক্রি হয়েছে আশপাশের অন্য জায়গায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জোয়ার বুঝে রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে নৌকাগুলো ঘাটে ফেরে, প্রতিদিন আলাদা জায়গায় হাতবদল হয়, দামও স্বাভাবিকের চেয়ে কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, সূক্ষ্ম ফাঁসের কারেন্ট জালে ছয় থেকে আট ইঞ্চির জাটকাও ধরা পড়ছে। সাধারণ সময়ে প্রকাশ্য ‘ডাক’-এ সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ইলিশ বিক্রি হয়, এখন নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী গোপনে কিনে নিচ্ছেন।
দক্ষিণ সন্দ্বীপের চিত্র উল্টো। সারিকাইত ইউনিয়নের বাংলাবাজার ও গাছতলী ঘাট থেকে কোনো নৌকা সাগরে যাচ্ছে না; জেলেরা বেড়িবাঁধে বসে জাল মেরামত করছেন। জেলে আবুল বাশার (৪৫) জানান, মাঝি ও জেলেরা ২৯ অক্টোবর ফিরবেন, ৩০ অক্টোবর আবার সাগরে যাবেন। সদারহাটে নৌকার মালিক দুর্লভ জলদাস (৩৫) বড় সামুদ্রিক মাছের জন্য নতুন জাল বুনছেন।
নিষেধাজ্ঞার সময় আয় হারানো জেলেদের জন্য ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। মৎস্য বিভাগের হিসাবে উপজেলায় কার্ডধারী জেলে ৮ হাজার ৩৩২ জন, এর মধ্যে চার হাজার জন এ বছর চাল পাবেন। তবে জেলেদের অভিযোগ, অর্ধেকের বেশি জেলে এখনো কার্ডই পাননি; সন্তোষপুরের অর্জুন জলদাস তাঁদের একজন। সারিকাইতের জেলে মো. ইউনুস বলেন, ২৫ কেজি চাল বেশি কিছু না হলেও এই অভাবের দিনে কাজে লাগত।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, কার্ডের তালিকা হালনাগাদের নির্দেশনা এসেছে, কার্ড না পাওয়া কেউ যোগাযোগ করলে ব্যবস্থা করবেন; অভিযান সফল করতে কোস্টগার্ডের সহায়তায় সাগরে অভিযান বা লোকবল বাড়িয়ে একাধিক জায়গায় একসঙ্গে অভিযানের পরিকল্পনা আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, সব এলাকায় চাল পৌঁছে গেছে, দুর্গাপূজার ছুটির কারণে বিতরণ হয়নি, রোববার থেকে বিতরণ শুরু হবে।
প্রতিবেদনটি করেছেন প্রথম আলোর সন্দ্বীপ প্রতিনিধি নুরুল আনোয়ার।
ছবি: Prabirghose / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)