মানুষ কী খায়, তার ওপর টিকার প্রতিক্রিয়া কতটা জোরালো হবে তা নির্ভর করতে পারে, বলছে সায়েন্স (Science) সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা। ফুডনেভিগেটরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষকেরা কোভিড-১৯-এর কারণ সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের এমআরএনএ টিকার পর জ্বরের সঙ্গে অন্ত্রের অণুজীবগোষ্ঠীর পার্থক্যের সম্পর্ক পেয়েছেন। আর এই অণুজীবগোষ্ঠী অনেকটাই গড়ে ওঠে খাদ্যাভ্যাস থেকে।
গবেষকেরা ১৭১ জন তরুণ প্রাপ্তবয়স্কের টিকা নেওয়ার আগে ও পরে মলের অণুজীব পরীক্ষা করেন এবং জ্বর মাপতে দিনে তিনবার তাপমাত্রা নেন। ল্যাকনোস্পাইরেসি (Lachnospiraceae)-র মতো কিছু অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ফ্ল্যাজেলিন নামের একটি প্রোটিন তৈরি করে, যা শরীরের প্রদাহজনিত রোগপ্রতিরোধ পথ সক্রিয় করতে পারে। টিকার আগে যাঁদের অন্ত্রে প্রদাহ বেশি ছিল, কিংবা অন্ত্রে ফ্ল্যাজেলিন তৈরির জিন বেশি সক্রিয় ছিল, টিকার পর তাঁদের জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা গেছে।
খাদ্যাভ্যাস এসেছে এই অণুজীবের সূত্র ধরে। বেশি চর্বি বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের সংযোজকযুক্ত, কিংবা কম গোটা উদ্ভিজ্জ খাবারের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে জ্বরের সঙ্গে যুক্ত প্রদাহী অণুজীবগোষ্ঠীর সম্পর্ক মিলেছে; নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মিলেছে কম জ্বরের বৈশিষ্ট্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রদাহ বা খাদ্যাভ্যাস অ্যান্টিবডির প্রতিক্রিয়া বদলায়নি; অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে খাবার টিকার সুরক্ষা ক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে বলে দেখা যায়নি।
গবেষণাটি বলছে, ভবিষ্যতে খাদ্যাভ্যাস বদলে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানো সম্ভব হতে পারে। গবেষণাপত্রের ওপর এক মন্তব্য-নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রোগপ্রতিরোধবিদ বালি পুলেন্দ্রান (Bali Pulendran) লিখেছেন, খাদ্য, অণুজীবের পরিবেশ ও বিপাকীয় অবস্থা অপরিবর্তনীয় নয়; একদিন হয়তো মানুষ টিকা নেওয়ার আগে ঠিক ততটাই ভেবেচিন্তে প্রস্তুতি নেবে, যতটা ভেবে টিকা তৈরি হয়। তবে কার্যকারণ সম্পর্ক এখনো ভবিষ্যৎ গবেষণায় প্রমাণ করতে হবে।
জ্বর ও ফ্লুর মতো উপসর্গ টিকার সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর অন্যতম, আর এগুলো অনেককে টিকা নিতে নিরুৎসাহিত করে। ফুডনেভিগেটর মনে করিয়ে দিয়েছে, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়ে যখন এমনিতেই প্রশ্ন উঠছে, তখন এই ফল কম সংযোজকযুক্ত "ক্লিন লেবেল" খাবারের প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহ আরও বাড়াতে পারে।
ছবি: Muséum d'histoire naturelle de Toulouse / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফুডনেভিগেটর





মন্তব্য
(০)