মাত্র ১৩ বছর বয়সে মুরগির খামার করার জন্য বাবার কাছে টাকা চেয়েছিল ন্জোম্বো চাবাঙ্গু (Njombo Chabangu)। দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশের ফালাবোরওয়ার লুলেকানিতে তার গোল্ডেন রুস্ট ফার্ম এখন প্রতি চক্রে ৪০০ ব্রয়লার বাচ্চা পালে; শুরু হয়েছিল প্রায় ১০০টি দিয়ে। খবরটি দিয়েছে ফুড ফর মজানসি।
২০২৫ সালে বাবা মোজেস চাবাঙ্গু তাকে ১০ হাজার ৫৭৫ র্যান্ড ধার দেন; তাতে প্রথম দফার বাচ্চা, সরঞ্জাম, পরিবহন ও শুরুর অন্যান্য খরচ মেটে। শর্ত ছিল টাকা ফেরত দিতে হবে। কিশোরের কথায়, ‘এতে শিখেছি ব্যবসাকে গুরুত্ব দিতে, টাকা বুঝে খরচ করতে।’ কম পুঁজিতে শুরু করা যায় বলে সে ব্রয়লার বেছে নেয়, আর টিকটক ও ইউটিউবে অন্য খামারিদের দেখে শেখে। ২০২৫ সালে ব্যবসা নিবন্ধনের পর (অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে বাবার নামে) সে পোলটেক পোলট্রি ইকুইপমেন্টের কাছ থেকে দ্বিতীয় চক্রের জন্য খাবার ও পানির পাত্র, হিট ল্যাম্প আর বাচ্চা যাতে পানিতে না ডোবে সেই রিং পায়।
এখন ১৪ বছর বয়সী ন্জোম্বো অল সেইন্টস কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। ছুটির দিনে ভোর পাঁচটার দিকে তার দিন শুরু হয়: বাতাস চলাচলের জন্য পাশের পর্দা খোলা, পানি ও খাবার দেখা, আর অসুখের লক্ষণ বুঝতে মুরগির চলাফেরা, আচরণ ও শ্বাস-প্রশ্বাস খেয়াল করা। পরে বিছানার লিটার উল্টে দেওয়া আর হিসাব লেখা। বিকেলে আবার খাবার-পানি দিয়ে পর্দা নামিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা চলছে কি না দেখে গেটে তালা দেয়, কারণ এলাকায় চুরি বড় সমস্যা। স্কুলের দিনে খামার দেখেন বাবা।
খামারে বাইরের লোক ঢোকা সীমিত, প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আর পরিচ্ছন্নতা কড়াভাবে মানা হয়। তার কথায়, ‘এতে রোগ খামারে ঢুকতে বা ছড়াতে পারে না, ক্ষতি কমে, মুরগি সুস্থ থাকে।’
ক্ষতিও হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে বাড়তি পাখা কিনতে হয়েছে। ভাড়া জায়গায় থাকার সময় অন্য ভাড়াটেরা মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতেন, হিট ল্যাম্প নিভে বাচ্চা মারা যেত। পানির ট্রাক থেকে টাকা দিয়ে ট্যাংক ভরাতে হয়, তাতে খরচ বাড়ে, আর পানির ঘাটতিতে বাচ্চার মৃত্যুও বেড়েছে।
সে মুরগি বিক্রি করে স্থানীয় মানুষ, শিশুদের ডে-কেয়ার আর দূরের ক্রেতাদের কাছে; খামার বড় হলে বাণিজ্যিক ক্রেতাদের সরবরাহের আশা। ভবিষ্যতে ব্যবসায় প্রশাসন পড়তে চায় সে। ন্জোম্বোর কথায়, ‘যা শিখব তা দিয়ে সফল উদ্যোক্তা হয়ে নিজের এলাকার জন্য কিছু করতে চাই।’ প্রতিবেদনটি করেছেন ভাতেকা হালিলে।
ছবি: Jessica Reeder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি



মন্তব্য
(০)