সাধারণ মৌসুমি সবজিতে ফলন তোলার মাঝে কয়েক দিনের বিরতি লাগে, কিন্তু লাউয়ে প্রতিদিন ফলন তুলে বাজারে বিক্রির সুযোগ থাকে। দিনাজপুর টিভির কৃষি ডেস্কের প্রতিবেদন বলছে, সঠিক পরিকল্পনা আর আধুনিক পদ্ধতি মেলাতে পারলে লাউ গ্রামীণ পরিবারের নিয়মিত আয়ের উৎস হতে পারে।
বেশি লাভের মূল কৌশল অসময়ে বা আগাম চাষ। ভরা মৌসুমে একটি লাউ পাইকারি বা খুচরা বাজারে ৫ থেকে ১০ টাকায় নেমে এলেও আগাম চাষে একই লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। অনেক সময় লাউয়ের চেয়ে কচি ডগা বিক্রিতে লাভ বেশি; এক হালি পুষ্ট ডগা ক্ষেত্রবিশেষে ১০০ টাকায় বিকোয়, যা পুরো একটি লাউয়ের দামের চেয়েও বেশি।
বীজ বোনার ৪৫ থেকে ৪৬ দিনের মাথায় গাছে দৃশ্যমান ফলন আসে। মালচিং পেপার ব্যবহার করলে গাছের গোড়ায় আগাছা জন্মায় না এবং মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ থাকে। লাউ রসালো ফসল, ভেতরে প্রচুর পানি থাকে; তাই গোড়া ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত সেচ জরুরি। ফলনের দ্রুততা ও স্থায়িত্বে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনার।
লাউগাছের কোনো অংশ অপচয় হয় না। পাতা ও ডগা দিয়ে শাক ও ভর্তা হয়, বাকি লতাপাতা কেটে গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়। পেঁপে বা অন্য ফলের বাগানে সাথী ফসল হিসেবে লাউ চাষ করে একই জমি থেকে বাড়তি আয়ও সম্ভব।
পরিবারের চাহিদা মেটানো, আত্মীয়দের দেওয়া আর অল্প খরচে নিয়মিত নগদ আয়, এই তিন কারণে লাউ চাষ টেকসই বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন: কৃষি ডেস্ক, দিনাজপুর টিভি
ছবি: Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0); লাউয়ের ফুল ও পাতা
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)