ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কৃষক আবু হানিফ ভূইয়া রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করছেন। বাড়ির পাশের মাত্র ২৫ শতাংশ জমির মাচা থেকে এক সপ্তাহ ধরে তিনি লাউ বিক্রি করছেন।
মনিয়ন্দ ইউনিয়নের রাজমঙ্গলপুর গ্রামের এই কৃষক প্রায় দুই মাস আগে চাষ শুরু করেন। জমি তৈরি, বীজ কেনা, চারা রোপণ, বেড়া দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারে এ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
হানিফ জানান, নিয়মিত পরিচর্যায় চারা রোপণের প্রায় ৪৫ দিনের মাথায় গাছে ফুল আসে, তার ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে লাউ খাওয়ার উপযোগী হয়। প্রতিটি লাউ বিকোচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। স্থানীয় ক্রেতার পাশাপাশি সবজি ব্যবসায়ীরা সরাসরি খেত থেকে লাউ কিনে নিচ্ছেন।
এ পর্যন্ত চার হাজার টাকার বেশি লাউ বিক্রি করেছেন তিনি। গাছে যে পরিমাণ ফলন এসেছে, তাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ৬০ হাজার টাকার বেশি লাউ বিক্রির আশা করছেন। মাচাজুড়ে এখন সাদা ফুল আর নিচে ঝুলছে সবুজ লাউ; সকাল-বিকেল খেতের যত্নেই কাটছে তাঁর সময়।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ রানা বলেন, লাউ চাষে তুলনামূলক কম শ্রম লাগে, ফলনও ভালো হয়। উপজেলার কৃষকেরা অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনমতো পরামর্শ দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, অল্প জমিতে পরিকল্পিত চাষ, নিয়মিত পরিচর্যা আর সরাসরি বিক্রির সুযোগ থাকলে কীটনাশক ছাড়াও সবজিতে ভালো আয় সম্ভব; হানিফের মাচা দেখে আশপাশের কৃষকেরাও লাউ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য: বাসস, এগ্রিকেয়ার২৪ প্রকাশিত
ছবি: Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)