নীলফামারীর লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরী মিয়াপাড়ার মাঠে বাঁশের মাচায় ঝুলছে কচি লাউ। এ বছর নিজের ২৪ শতক জমিতে চার জাতের লাউ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষক সুধীর চন্দ্র রায়, কিন্তু স্থানীয় বাজারে হঠাৎ দরপতনে ন্যায্য লাভ পাচ্ছেন না।
সেপ্টেম্বরে বীজ লাগান তিনি। মাচা তৈরি, বীজ, সেচ ও পরিচর্যা মিলিয়ে খরচ হয়েছে আনুমানিক ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভর না করে শুধু নিজের হাতে তৈরি জৈব সার ব্যবহার করেছেন; পরিমিত সেচ আর যত্নে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফলন এসেছে।
গত ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি লাউ তুলছেন সুধীর। এরই মধ্যে প্রায় ১২ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন; আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন তিনি।
সমস্যা দামে। ঢাকাসহ বড় বাজারে সবজি পাঠানোর পরিবহন ও বিপণনের সুযোগ না থাকায় স্থানীয় আড়তে প্রতিটি লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র সাত থেকে আট টাকায়, অথচ ঢাকায় পাঠাতে পারলে একেকটি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতো। 'এত কষ্ট করে সবজি ফলাই, কিন্তু লাভের বড় অংশই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে,' বলেন সুধীর চন্দ্র রায়। তাঁর মতে, সরাসরি বড় বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা থাকলে কৃষকেরা উপকৃত হতেন।
বাজারের এই সংকটের মধ্যেও তিনি নিয়মিত নানা শাকসবজি আবাদ করছেন, আর এলাকার অন্য কৃষকদেরও বিষমুক্ত জৈব পদ্ধতিতে চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন।
প্রতিবেদন: শহিদুল ইসলাম, দিনাজপুর টিভি।
ছবি: লাউ (প্রতীকী), Ton Rulkens / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)