কেনিয়ার রাস্তায় সেদ্ধ ডিম কেটে ওপরে সবজি দিয়ে বিক্রি হয়, নাম 'নিগঙ্গি', মানে 'আমার জন্য ভেঙে দাও'। সস্তা, প্রায় সবখানে পাওয়া যায়; যাত্রীদের নাশতা, কারও কারও দিনের একমাত্র খাবার। আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএলআরআই) এই ডিম দিয়েই দেখিয়েছে, এর পেছনের মুরগির ওপর কত কিছু নির্ভর করে।
একটি বড় ডিমে প্রায় ছয় গ্রাম উন্নত মানের প্রোটিন, নয়টি অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম ও আয়োডিন থাকে; কুসুমে আছে মস্তিষ্কের বিকাশে দরকারি কোলিন। প্রাণিজ খাবারের মধ্যে খরচের হিসাবে ডিম মাংস বা মাছের চেয়ে সস্তা। কেনিয়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৮ শতাংশ শিশু খর্বকায়। কেনিয়া ও ইথিওপিয়ায় দিনে একটি ডিম কর্মসূচিতে শিশুদের খাদ্যবৈচিত্র্য ২০ শতাংশ বেড়েছে, আর ইথিওপিয়ায় ৬ থেকে ১২ বছরের স্কুলশিশুদের নাশতায় একটি ডিম যোগ করায় মনোযোগ, ফল ও আয়রনের মাত্রা ভালো হয়েছে।
এই মুরগির বেশির ভাগ পালেন নারীরা। সাব-সাহারান আফ্রিকায় ৮৫ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার হাঁস-মুরগি পালে, মুরগির প্রায় ৭০ শতাংশের মালিক নারী; কেনিয়ার গ্রামে প্রধান মালিক নারী (৬৩ শতাংশ), এরপর শিশুরা (১৮ শতাংশ)। সবচেয়ে বড় হুমকি রোগ: রানীক্ষেত (নিউক্যাসল) রোগ কয়েক দিনে গ্রামের সব মুরগি শেষ করে দিতে পারে। কেনিয়ার গ্রামীণ পরিবারগুলো টিকা দেওয়ার পর তাদের শিশুরা ২৪ শতাংশ বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেয়েছে, বেড়েও উঠেছে ভালো।
উন্নত জাতে উৎপাদন বাড়ে। ইথিওপিয়ায় দেশি টিলিলি মুরগির প্রজননে ২৪ সপ্তাহে ডিম উৎপাদন ১১১ শতাংশ আর ১৬ সপ্তাহের ওজন ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। কেনিয়ায় কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা সংস্থার (কালরো) সঙ্গে বোমেত ও কাকামেগা কাউন্টির ২১৬টি ক্ষুদ্র খামারি পরিবার, যার ১৫৯টি নারীর নেতৃত্বে, উন্নত জাত নিয়েছে, প্রশিক্ষণ ও ১২ হাজার মুরগির বাচ্চা পেয়েছে; কাকামেগায় মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা উৎপাদনও শুরু হয়েছে। আইএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান তিয়াম্বো বলেন, উন্নত মুরগি ছোট খামারের পরিবেশে মানিয়ে অনেক বেশি ডিম দেয়।
ডিম উৎপাদনের সবচেয়ে বড় খরচ খাদ্য; তিসি ও উদ্ভিজ্জ পলিফেনল মিশিয়ে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ডিম উৎপাদনের পরীক্ষায় দেখা গেছে, সপ্তাহে তিন-চারটি এমন ডিম খেলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় ওমেগা-৩ পেতে পারে। অন্য দিক খাদ্য নিরাপত্তা: ডিমে সালমোনেলা থাকতে পারে, আফ্রিকার বেশির ভাগ প্রাণিজ খাবার অনানুষ্ঠানিক বাজারে বিক্রি হয়, আর গবেষণা বলছে বিক্রেতাদের নিষিদ্ধ না করে তাদের সঙ্গে কাজ করলেই খাবার নিরাপদ হয়। টিকা, ভালো ঘর ও খাদ্য অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারও কমায়।
২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকায় প্রাণিজ খাবারের চাহিদা তিন গুণ হতে পারে। আইএলআরআইয়ের মতে, ডিম সবার নাগালে রাখতে দরকার সুস্থ ও উৎপাদনশীল মুরগি, সাশ্রয়ী খাদ্য, নিরাপদ বাজার আর পালনকারী নারী ও তরুণদের ন্যায্য আয়। লেখাটি আইএলআরআইয়ের পল ওয়াওয়েরু নিয়াম্বুরার।
ছবি: Ton Rulkens (মোজাম্বিকের গ্রামের মুরগি) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ILRI





মন্তব্য
(০)