জন্মের পর বাছুর দাঁড়িয়ে দুধ টানছে দেখলে নিশ্চিন্ত লাগে, কিন্তু তাতে বোঝা যায় না সে কতটা শালদুধ খেল, তাতে রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি কত ছিল বা কতটা শরীরে গেল। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপের সমারসেট ওয়েস্টের কাছে বিশ্ব ওয়াগিউ সম্মেলনে এ কথা বলেন যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের পশুচিকিৎসা পরামর্শক ড. রায়ান ডেভিস (Ryan Davies), যিনি শালদুধ প্রস্তুতকারক সাসকাটুন কলোস্ট্রাম কোম্পানিকে কারিগরি পরামর্শ দেন।
বাছুর রক্তে কোনো অ্যান্টিবডি ছাড়াই জন্মায়, প্রাথমিক সুরক্ষার জন্য নির্ভর করে গাভির প্রথম দুধ শালদুধের ওপর। এতে প্রচুর ইমিউনোগ্লোবুলিন জি (আইজিজি) থাকে, সাধারণ দুধের চেয়ে অনেক বেশি চর্বি থাকে, যা শরীর গরম রাখে ও রক্তে শর্করা ধরে রাখে, আর থাকে ভিটামিন এ, ডি ও ই, প্রিবায়োটিক ও অন্ত্রের বৃদ্ধির উপাদান। জন্মের ঠিক পরেই অ্যান্টিবডি শোষণ সবচেয়ে বেশি, তারপর দ্রুত কমে; তাই প্রথম খাওয়ানো এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে হওয়া উচিত, আর প্রায় ২৪ ঘণ্টায় অন্ত্রের সেই পথ বন্ধ হয়ে আসে।
ভালো শালদুধের শুরু গাভি থেকে। অসুখ দ্রুত সারাতে হবে, প্রসবের আগে খাদ্যে চাহিদা মেটাতে হবে; গর্ভের শেষ দিকে তাপের চাপ শালদুধের মান আর বাছুরের শোষণ ক্ষমতা দুটোই কমাতে পারে। উপযুক্ত টিকা থাকলে প্রসবের আগে পশুচিকিৎসকের সঙ্গে মিলে টিকা দিলে নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে শালদুধে অ্যান্টিবডি বাড়তে পারে।
গাভিভেদে মান আলাদা, তাই ব্রিক্স রিফ্র্যাক্টোমিটারে পরীক্ষার পরামর্শ দেন ডেভিস। তাঁর নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রায় ২১-২২ শতাংশ ব্রিক্স মানে লিটারে মোটামুটি ৫০ গ্রাম বা বেশি আইজিজি, আর ২৮ শতাংশ বা বেশি মানে লিটারে প্রায় ৯০-১০০ গ্রাম। লিটারে ৫০ গ্রামের দুই লিটার দেয় ১০০ গ্রাম অ্যান্টিবডি, লিটারে ১০০ গ্রামের একই পরিমাণ দেয় দ্বিগুণ। ওয়াগিউর জন্য তিনি অন্তত ২৪ শতাংশ ব্রিক্স চান। পাঠগুলোর হিসাব রাখলে গর্ভবতী গাভির খাদ্য ও যত্ন কেমন চলছে, তা-ও বোঝা যায়।
জন্মের পর প্রতিটি বাছুর কতটা সতেজ, কত দ্রুত দাঁড়ায়, বাঁট খুঁজে পায় কি না, দেখতে হবে। প্রথম বিয়ানো বকনার বাছুর, দীর্ঘ প্রসবের পর জন্মানো বাছুর আর দুর্বল বা ধীরে দাঁড়ানো বাছুরের দিকে বাড়তি নজর দরকার, প্রসবে সাহায্য করতে না হলেও। প্রতিবেদনটি করেছেন গ্লেনিস ক্রিল।
ছবি: Scott Bauer, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)