মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল কেটে একের পর এক রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠছে। গত কয়েক বছরে জেলায় এ ধরনের স্থাপনা বেড়ে প্রায় ২০০টিতে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু এদের বেশির ভাগের অনুমোদন ও বৈধতা নিয়ে সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই। সমকালের মৌলভীবাজার ও কমলগঞ্জ প্রতিনিধির প্রতিবেদনে এ খবর এসেছে।
উঁচু টিলা কেটে সমতল করা হচ্ছে, গভীর বনের ভেতরে কটেজ উঠছে, গাছ সরিয়ে রাস্তা বানানো হচ্ছে। এতে বন্যপ্রাণীর আবাস ও চলাচলের পথ ছোট হয়ে আসছে। ১৯৯৬ সালে কমলগঞ্জের ১ হাজার ২৫০ হেক্টর সংরক্ষিত বন নিয়ে ঘোষিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম প্রধান চিরহরিৎ বন। ২০০৮ সালে মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার পর ২০১৩ সালে শ্রীমঙ্গলে ১৩ একরে প্রথম পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট চালু হয়; এখন শ্রীমঙ্গলেই রিসোর্ট শতাধিক, শুধু শহরের রাধানগরেই ৪০ থেকে ৪৫টি।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব জানান, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে লাউয়াছড়া থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাপসহ নানা প্রাণী লোকালয়ে চলে এসেছে। অজগর, পদ্ম গোখরা, আইড ক্যাট স্নেক, সবুজ ফণিমনসা, গন্ধগোকুল, বানর ও মেছো বিড়াল উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, নির্বিচারে পাহাড়-জঙ্গল কাটা আর আবাসে মানুষের আনাগোনা বাড়ায় প্রাণীরা বনকে আর নিরাপদ মনে করছে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য আ স ম ছালেহ সোহেল বলেন, বন্যপ্রাণীর আবাসের আশপাশে গড়ে ওঠা রিসোর্টের উচ্চক্ষমতার কৃত্রিম আলো বহু দূর ছড়ায়, এতে প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। রিসোর্টের সংখ্যা ১০ থেকে ২০টির মধ্যে থাকলে পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতো বলে মনে করেন তিনি। বড় কোম্পানি, ধনী ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা ও তারকারাও নামে-বেনামে এসব রিসোর্টে বিনিয়োগ করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে; অনেকে মাত্র দুই-তিন শতক জমি কিনেই রিসোর্ট চালাচ্ছেন।
নিয়ম অনুযায়ী ২০ বা তার বেশি কক্ষের রিসোর্টকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়, এর কম হলে লাগে না। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, টিলা কাটার অভিযোগ পেলে প্রশাসন খতিয়ে দেখছে; হোটেল-রিসোর্টের জমির মালিকানা, অনুমোদন ও লাইসেন্সের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে, শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন ছাড়া টিলার শ্রেণি বদলাতে দেওয়া হচ্ছে না, আর সম্প্রতি নিয়ম না মানায় দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
ছবি: Nasir Khan Saikat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)