ব্রহ্মপুত্রের তীরে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বোটানিক্যাল গার্ডেনে ভেষজ বাগানের পাশেই এখন চোখে পড়ছে মাঙ্কি ব্রাশ ফুল। উজ্জ্বল লাল ফুলের গুচ্ছ দেখতে অনেকটা রং মাখা বানরের লেজ বা রঙিন ব্রাশের মতো, সেখান থেকেই ইংরেজি নাম Monkey Brush Flower।
উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম Combretum rotundifolium, গোত্র Combretaceae। এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দক্ষিণ আমেরিকার, বিশেষ করে আমাজন অববাহিকা ও আশপাশের আর্দ্র বনাঞ্চলের উদ্ভিদ। সৌন্দর্যের কারণে এখন বিশ্বের নানা দেশে বাগানপ্রেমীরা এটি লাগান।
এটি কাষ্ঠল লতানো গুল্ম। উপযুক্ত অবলম্বন পেলে শাখা-প্রশাখা ২০ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে; কখনও ঝোপের মতো ছড়িয়ে বাড়ে, কখনও পাশের গাছ বা কাঠামো আঁকড়ে বিস্তার লাভ করে। পাতা সরল, বিপরীতভাবে সাজানো, ডিম্বাকার থেকে উপবৃত্তাকার, কিছুটা পুরু।
ফুল আসে শাখার আগায় বা ওপরের পাতার কক্ষ থেকে। গুচ্ছে অসংখ্য ফুল ঘন হয়ে থাকে। পাপড়ি ছোট হলেও পুংকেশর লম্বা, সুতার মতো এবং বাইরের দিকে ছড়ানো, যা পুরো থোকাকে ব্রাশের চেহারা দেয়। ফুল ঝরে গেলে চারটি ডানাযুক্ত ফল হয়, যা বাতাসে ছড়ায়। উজ্জ্বল রঙের ফুল নানা পরাগবাহীকেও টানে।
বাগানে কীভাবে লাগানো যায়: উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে উদ্ভিদটি ভালো জন্মে। পর্যাপ্ত আলো, পানি নিষ্কাশনের উপযোগী মাটি আর বেয়ে ওঠার মতো অবলম্বন পেলে এটি সুন্দরভাবে ছড়ায়। পূর্ণ রোদ বা আংশিক ছায়া, দুই পরিবেশেই উপযুক্ত পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে। বাগানের প্রবেশপথ, খিলান বা মজবুত মাচা সাজাতে এই লতা ব্যবহার করা যায়।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এমন বিদেশি শোভাবর্ধক লতা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগানে টিকে থাকা ও ফুল দেওয়া নার্সারি ও শৌখিন বাগানিদের জন্য আগ্রহের বিষয়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন উদ্ভিদবিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক।
ছবি: Eric Bronson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)